জানা-অজানা

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি ‘র ১০ টি অবাক করা তথ্য, ৫ নম্বর আমাকে বেশি অবাক করেছে

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি

দেশ বিদেশে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, জেনারেল বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ভেন্ডিং মেশিনসহ বিভিন্ন স্থানে কোকা-কোলা বিক্রি হয়। দ্য কোকা-কোলা কোম্পানির দাবি অনুসারে বিশ্বের ২০০ এরও বেশি দেশে কোকা-কোলা বিক্রি হয়। একে সংক্ষেপে ‘কোক’ বা ‘পপ’ নামেও ডাকা হয়। এটি প্রথমে বিক্রি হতো ওষুধ হিসেবে। প্রতি গ্লাস কোকের দাম ছিল মাত্র ৫ সেন্ট। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো – এরকম বিশ্বাসের কারণে পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই কোক জনপ্রিয়তা পায়। তবে প্রথম বছরে কোকা-কোলা বিক্রি হয় মাত্র নয় গ্লাস।

তৃষ্ণা মেটাতে বা অতিথি আপ্যায়নে আমাদের দেশেও পানীয় হিসেবে এটা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। যত রকমের পানীয়ই আসুক না কেন এর সাথে কারও তুলনা হয় না। পড়ুন এই জনপ্রিয় পাণীয় সম্পর্কে ১০টি অবাক করা তথ্য।

কোকা-কোলা ‘র ১০ টি অবাক করা তথ্য

১. যদিও মার্কিন ফার্মাসিস্ট জন এস পেম্বারটন ১৮৮৬ সালে আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু কোকা-কোলা নামটি এসেছে তার পার্টনার ও হিসাবরক্ষক ফ্র্যাঙ্ক ম্যাসন রবিনসনের কাছ থেকে। রবিনসন Coca Cola নামটিও সাজেস্ট করেছিলেন এই বলে যে, ২টি C পাশাপাশি দেখতে সুন্দর লাগবে। বুককিপার হওয়ার কারণে (এবং তৎকালীন সময়ে পিসি, ফোন না থাকার কারণে) তাকে প্রতিদিন লিখতে হত আর যথেষ্ট স্পষ্ট করেই লিখতে হত। অতঃপর তিনি “স্পেনসেরিয়ান স্ক্রিপ্টে” সুন্দর করে CocaCola লিখেন এবং একজন এনগ্রেভার “যারা খোদাই করে ফলক বানাতেন” এর নিকট গিয়ে লোগোটি চূড়ান্ত করেন।

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি

কোলাজ: স্পেনসেরিয়ান স্ক্রিপ্টের নমুনা ও প্রথম দিককার কোকাকোলার লোগো

২. প্রথম দিকে এর প্রতি গ্লাসে ৯ মিলিগ্রাম কোকেন মেশানো হত, যা ১৯০৩ সালে বাদ দেওয়া হয়েছে। মূল কোকা-কোলাতেও অ্যালকোহল মেশানো হত।

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি

ইন্টারনেট থেকে পাওয়া একটি কোকাকোলা রেসিপিতে, ৮ আউন্স এলকোহলের কথা দেখা যাচ্ছে

৩. এর জনপ্রিয় বোতলটি নকশা করা হয়েছে কাকাও বীজের খোলসের সাথে মিল রেখে। কাকাও বীজের চারদিকে যেমন আকার রয়েছে, কোকা কোলার বোতলেও তেমনি খাঁজ রয়েছে।

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি

কাকাও বীজের গায়ের ভাঁজ আর কোকা-কোলা বোতলের গায়ের ভাঁজ একইরকম।


 

৪. কোকা-কোলা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিপননকৃত কোমল পানীয়। ২০১৬ সালে কোকা কোলার নেট রেভেনিউ ছিলো ৪১ বিলিয়ন ডলার। অঙ্কটা অনুধাবন করতে হলে জেনে রাখুন, বাংলাদেশের ২০১৭-১৮ বাজেট প্রস্তাব হয়েছিলো ৫১ বিলিয়ন ডলারের। তবে কোকা কোলার ২০১২ তে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রেভেনিউ ছিলো।

৫. বিশ্বের মাত্র দুইটি দেশে এই পানীয় বিক্রি হয় না; উত্তর কোরিয়া এবং কিউবা। আর একটা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতেও কোকাকোলা বিক্রয় বন্ধ ছিলো। ১৯৭৭ সালে ভারত সরকার জনস্বার্থে কোকা কোলার নিকট তাদের রেসিপি জানতে চায়; তারপর হতে ১৬ বছর কোকা কোলা ভারতের বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিল, তবুও রেসিপি জানায়নি।

৬. বিশ্বে মেক্সিকোর লোকজন সবচেয়ে বেশি এই পানীয় পান করে থাকে। একজন মেক্সিকান বছরে গড়ে ৭৪৫ টি কোক পান করে। বেশি বেশি কোকা কোলা পান করে ডায়াবেটিক রোগীরা প্রায়ই কম-বয়সে মারা যা, তাদের অনেকে ভর্ৎসনা করে বলে “কোকা-কলেরা” তে মারা গেছে। তবে মেক্সিকানরা শুধু কোকা কোলা নয়, বেভারেজের সবচে বড় ভোক্তা – বছরে সবরকম কোমল পানীয় মিলিয়ে একজন মেক্সিকান মোট ১৬৩ লিটার পান করেন। এক জরিপে জানা গেছে, ছয় মাস বয়সের প্রায় ১০% শিশুদের কোকাকোলা পান করতে দেওয়া হয়। মেক্সিকো সরকার বাধ্য হয়ে ২০১৪ সালে সকল রকম চিনি-মিশ্রিত কোমল পানীয়তে ১০শতাং অতিরিক্ত কর বসিয়েছে।

৭. এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, কোলা-কোলা বিশেষ করে ডায়েট কোকা কোলা শুক্রাণু ধ্বংসে করতে সক্ষম। যদিও কোন ডাক্তার এটিকে জন্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারে সুপারিশ করেন নাই।

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি
 

৮. পৃথিবীর ৯৬ শতাংশ মানুষ কোকা-কোলার লোগো সনাক্ত করতে পারে। ২০১৫ সালের রমজান মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে, কোম্পানি তাদের এত বিখ্যাত Coca Cola লেখাটি ক্যান থেকে মুছে দেয়, ভ্যানিশ করে দেয়। রয়ে যায় শুধু পেছনের ঢেউ খেলানো ফিতা। আর অপর পাশে লিখে দেয়, “লেবেল দেয়া হয় ক্যানে – মানুষের কোন লেবেল হয় না”। এটি তারা করেছিলো, সকল মানুষ সমান, কেউ কাউকে কোনরকম জাজমেন্ট করা উচিত নয়। মজার বিষয় হল, কোম্পানি পরে জানিয়েছিল নাম না থাক সত্ত্বেও তাদের পণ্য চিনতে কেউ ভুল করেননি আর বিক্রির পরিসংখ্যানেও কোন তারতম্য হয়নি।

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি

Coca Cola লেখা ছাড়া পানীয়ের ক্যান

৯. ১৯২৮ সালের অলিম্পিক গেমসে প্রথম বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষক রাখা হয় কোকা-কোলাকে। কোম্পানিটি যেসব দেশে শাখা রয়েছে, সেখানে তারা নানারকম কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। ১৯৮৬ সালে ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতার জন্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় “Coca Cola Scholar Foundation”। সংগঠনটি প্রতি বছর ১৪০০ ছাত্র-ছাত্রীকে প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বৃত্তি প্রদান করে থাকে। তবে কোকা কোলা কখনো বিপিএল স্পনসর করেছে কিনা আমার জানা নেই।

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি

১৯২৮ সালের অলিম্পিকে (celalgursoy.com)


 

১০. কোকা-কোলার আসল ফর্মূলা সানট্রাস্ট ব্যাংক আটলান্টায় ভল্টে রক্ষিত আছে, যা দ্য কোলা কোলা কোম্পানি এর হেডকোয়ার্টারের পাশে অবস্থিত।

দ্য কোকা কোলা কোম্পানি
 

বোনাস: কোকা কোলার যে লাল রং তার কোন প্যান্টন কালার সোয়াচ নেই। কিন্তু তবুও আপনি আমি যে কেউ ওই লাল দেখলেই বলবে এটা কোকা কোলার লাল রঙ। তারা কিভাবে এই রং তাদের বিভিন্ন প্রচার-প্রসারের কাজে কনসিসটেন্টলি ব্যবহার করে? কোম্পানীর গ্লোবাল ডিজাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “এটা আমাদের ২য় সিক্রেট ফরমূলা”।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top