জানা-অজানা

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার নিয়ে আসছে ক্রিসমাস বা বড়দিন। বল্গাহরিণ টানা স্লেজগাড়িতে বসা হাশিখুশি মোটা লোকটার কাছ থেকে উপহার গ্রহন করার বিষয়টা আজব হলেও, সান্তাই কিন্তু ক্রিসমাস লোক-কাহিনীতে সবচেয়ে অদ্ভুত ক্রিসমাস ক্যারেক্টার নয়। যদিও বাংলাদেশে আমরা সাধারণত জানি যে, বাচ্চারা শুধু সান্তা’র কাছেই তাদের চিঠি লিখে প্রতিবছর। কিন্তু ক্রিসমাসের কল্প-গল্প-কাহিনীতে প্রচলিত রয়েছে আরও অনেক অজানা সব চরিত্র, আজ জানবো তাদের কথা।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বংশ পরম্পরায় মুখে মুখে বয়ে এইসব গল্প-কাহিনী এই পর্যন্ত এসেছে। বাবা-মা বা দাদী-নানীরা শিশুদের শোনায়; শিশুরা বড় হয়ে পরের প্রজন্মকে তা শুনিয়ে যায়। এভাবেই এ গল্পগুলোও আমাদের উৎসব লোক-কাহিনীতে স্থান করে নিয়েছে। আসুন জেনে নেই ক্রিসমাসের সাথে সম্পৃক্ত ১০ টি অদ্ভুত জন্তু, পিশাচ বা প্রাণীর গল্প, হয়তো এই ক্রিসমাসে এদের কারও সাথে আপনার দেখা হবে।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: ইউল গোট

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

ইউল গোট (Creative Commons)

সুইডেনে, ফাদার ক্রিসমাসের কাছে সব সময় বল্গাহরিণ টানা স্লেজ গাড়ি থাকে না, একবার সে একটি ছাগলে চড়ার কথা চিন্তা করলো। ইউল গোটকে সেই দুটো ছাগলের বংশধর মনে করা হয়, যারা আকাশে থর‘র রথ টানতো।

বজ্রপাত আর বিদ্যুত আনার বদলে ইউল ছাগল সান্তাকে লক্ষ্মী বাচ্চাদের জন্য উপহার আনতে সাহায্য করে। ক্রিসমাসের সাজসজ্জায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় ছোট ছোট খড়ের ছাগল বেশ জনপ্রিয়। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত হল বিশাল আকৃতির একটি ছাগল, কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হল, এতে প্রতিবছরই আগুন লেগে যায়।

প্রতিবছর সুইডিশ শহর গ্যাভলে, তারা একটি মস্তবড় ইউল ছাগল তৈরী করা হয়। প্রতিবছরই কেউ একজন গোপনে এই ছাগলে আগুন দিয়ে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, স্থানীয় অফিসিয়ালরা এই অগ্নিসংযোগের ঐতিহ্যকে বন্ধ করতে কম দাহ্য খড় ব্যবহার করছেন, আশেপাশে ক্যামেরা বসিয়েছেন, এমন কি পাহারা বসিয়েছেন। এতো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, ইউল ছাগল প্রজ্বলনের ঐতিহ্য চলে আসছে।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: ফ্রাও পেরচ্‌তা ডাইনি

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

ফ্রাও পেরচ্‌তা (our-spooky-world.tumblr.com)

জার্মানি ও অস্ট্রীয় আল্পসের কিছু অংশে এক ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর ডাইনি বুড়ির কথা প্রচলিত আছে, যার নাম ফ্রাও পেরচতা। ফ্রাও পেরচ্‌তার উৎস খ্রিস্টধর্মের আগমনের পূর্বে পেগান বা পৌত্তলিক ধর্মে, তবে আধুনিক যুগে তার ইমেজ এক ভয়ঙ্কর ডাইনি বুড়ির।

লম্বা পোষাক পড়া ফ্রাও পেরচ্‌তা দেখতে জন্তুর মত বিভৎস। পোষাকের নিচে সে তার ধাড়ালো ছুড়ি লুকিয়ে রাখে। কথিত আছে ক্রিসমাসের সময় ১২ দিন ফ্রাও পেরচ্‌তা বাড়ি বাড়ি ঘুড়ে বেড়ায়। যদি সে কোন ভাল বাচ্চা খুঁজে পায়, খুশি হয়ে তাকে ছোট্ট কোন উপহার দেয়। যদি কোন দুষ্টু বাচ্চা খুঁজে পায় তাহলে সে তার লম্বা পোষাকের নিচ রাখা ধাড়ালো ছুড়িটা বের করে।

বাচ্চাদের ভয় দেখাতে বলা হয় পেরচ্‌তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সূতার চড়কা দেখে। ক্রিসমাসের ১২তম দিনের মধ্যে যদি সব উল চড়কায় সূতা করা শেষ না হয়, তাহলে পেরচ্‌তা ছুড়ি দিয়ে বাচ্চাদের নাড়িভুঁড়ি বের করে দেয়। নাড়িভুঁড়ি বের করে দিয়ে সে জায়গায় খড়কুটো দিয়ে ভরে পেছন থেকে সেলাই করে দেয়।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: কালিকান্তজারোই গবলিন

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

কালিকান্তজারোই (greekerthanthegreeks.blogspot.co.uk)

কালিকান্তজারোই এবং এ ধরনের আত্মার সন্ধান পাওয়া যায় দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ জুড়ে। এরা মাটির তলায় বাস করে; আকারে বেঁটে; দেখতে কাল এবং দুষ্টু প্রকৃতির। কেবলমাত্র ক্রিসমাসের ১২ দিন এদের দেখতে পাওয়া যায় কারণ অধিকাংশ সময় এরা পৃথিবীর গভীরে কেন্দ্রে পৃথিবী ধ্বংসে ব্যস্ত থাকে।

পৌরাণিক কথায় আছে, পৃথিবীকে একটি বিশাল ‘পৃথিবী গাছ’ ধরে আছে। এর শিকড় এবং শাখাগুলো পৃথিবীকে শক্তি যোগায়। এখানেই কালিকান্তজারোইরা শয়তানি করে। বছরের বেশির ভাগ সময় এরা এই পৃথিবী গাছ কাটতে থাকে।

প্রতি বছর যখন ক্রিসমাস আসে, কালিকান্তজরোইরা পৃথিবী গাছ কাটা বন্ধ রাখে। এ সময়ের মধ্যে পৃথিবী গাছ আবারও সুস্থ হয়ে ওঠে, ফলে কালিকান্তরাজোইরা কখনই পৃথিবী ধ্বংস করতে পারে না।

কালিকান্তোজারোইদের যেন বাড়ি ধ্বংস করতে না পারে, এজন্য কিছু পন্থা অবলম্বন করা যায়। দরজার পেছনে শূকরের চোয়াল ঝুলিয়ে দিতে পারেন। অনেক ভূত-প্রেতাত্মার মত কালিকান্তজারোই জিনিষ গণনা এড়াতে পারে না। কিছু শনগাছ ঝুলিয়ে দিতে পারেন যেন এগুলো গুনতে তারা বিপদে পরে যায়। যেহেতু এরা চিমনি দিয়ে প্রবেশ করে, তাদের দূরে রাখতে ক্রিসমাসের ১২ দিন কড়া আগুন জ্বালিয়ে রাখুন।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: লা বেফানা ডাইনি

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

“দ্য গোল্ডেন বুক অফ ক্রিসমাস টেল” থেকে জেমস লাউইস্কি’র চিত্রকর্ম (italialiving.com)

ক্রিসমাসের এধরনের অনাহূত অতিথিরা বাড়ির চিমনি দিয়ে ঢুকতে পছন্দ করে। ইতালিতে প্রচলিত আছে, জানুয়ারি ৫ তারিখ রাতে, ভয়ানক বুড়ি ডাইনি লা বেফানা চিমনি দিয়ে নেমে এসে বাড়ির সকল বাচ্চাদের পরখ করবে। বুড়ি ডাইনি আসবে বলে উপহারের আশায় বাড়ির সকল বাচ্চা মেন্টেলে তাদের মোজা ঝুলিয়ে দেবে।

যদি এই বুড়ি ডাইনি যাকে ভাল মনে করে, তার মোজায় উপহার ভরে দেয়। যদি সে দুষ্টু বাচ্চা পায় তাহলে সে পাবে কয়লার টুকরা। এই কয়লার টুকুরা নতুন বছরে পৌত্তলিকদের পোড়ানো কোন নারীর হবে। খ্রিস্টান উৎসব ইপিফানি থেকে এ ডাইনির নামটি এসেছে।

প্রথামতে, শিশু যীশুকে দেখতে যাওয়ার পথে জ্ঞানী ব্যাক্তিদের সাথে লা বেফানার দেখা হয়। সে তাদের রাতে ও সকালে আতিথেয়তা প্রদান করে। জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাদের সাথে নবজাত খ্রিস্টকে দেখতে তাকে পরামর্শ দেয়। কিন্তু সে তা প্রত্যাখান করে। কিন্তু পরে তার মত বদলালেও আর জ্ঞানী ব্যাক্তিদের খুঁজে পায়নি। শিশু খ্রিস্টকেও আর দেখার সুযোগ হয়নি। একারনে এখন সে বিশ্বের সকল শিশুদের উপহার দিয়ে তার সময় অতিবাহিত করছে।

যেহেতু আরেক ক্রিসমাস ক্যারেক্টার সান্তার সাথে বেফানাও উপহার বিলি করে, সৌজন্য রক্ষায় তার জন্য খাবার ও পানীয় রাখার প্রচলন রয়েছে। ইতালি ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন খাবার রাখা হলেও সব ঘরেই তার জন্য ওয়াইন রাখা হয়।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: গ্রীলা ও তার ইউল বিড়াল

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

গ্রীলা (imgur.com)

আইসল্যান্ডে, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক রক্তহীম করা চরিত্রগুলো মধ্যে একটি রাক্ষুসী, উৎকট, দানবী –গ্রীলা। তার সাথে আছে একটি ভয়ঙ্কর বিড়াল। ১২ শতক থেকে আইসল্যান্ডীয় লোকগাঁথায় এ দানবী গ্রীলার কথা উল্লখিত আছে। একটি সময় ক্রিসমাসের সাথে তার নাম বেশি জড়িত হতে থাকে এবং তার জঘন্য প্রতিভাগুলো এই উৎসবে ব্যবহার হতে শুরু করে। বলা হয়ে থাকে, গ্রীলা ছুটির মৌসুমে আইসল্যান্ডের শিশুদের কাছে আসে। যদি সে কোন দুষ্টু বাচ্চাকে পায়, তাকে সে তার ছালা বা বস্তায় পুরে নিয়ে যায় এবং পরে গিলে খায়।

যদিও গ্রীলা ওতোটা খারাপ না, কিন্তু তার আছে জোলাকট্টিরিন নামে একটি বদমেজাজী ইউল বেড়াল। ক্রিসমাসে এই বেড়াল আবার ফ্যাশন-সমালোচক হয়ে ওঠে। যারা ক্রিসমাসে নতুন কাপড় পড়ে না তাদের কাছে এই ইউল বেড়াল একটা বড় দানব। এমন নয় যে ক্রিসমাসকে বাণিজ্যিকিকরণ করতে এমন টা বলা হয়। আইসল্যান্ডে, যেসব বাচ্চারা টুকিটাকি কাজ করে দেয় তাদেরকেই নতুন কাপড় দেওয়া হয়। তাই যারা নতুন কাপড় পড়ে না তাদের অবাধ্য এবং দুষ্টু মনে করা হয়। ইউল বেড়াল যদি এমন বাচ্চাদের খুঁজে পায়, সে তাদের খেয়ে নেয়।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: ইউল ল্যাডস বা দুষ্ট ছোকরার দল

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

গ্রীলার ১৩ ছেলে (theozeffect.org)

একটা সময় গ্রীলা ভাবলো তার বেড়ালটা দুষ্টু বাচ্চাদের কাছে যথেষ্ঠ ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে না। তাই গ্রীলা আর তার দৈত্যাকার স্বামী মিলে ১৩টি ছেলে সন্তান জন্ম দিল –এরাই হল ইউল ল্যাড বা ছোকরা। ক্রিসমাসের আগে ১৩ দিন, প্রত্যেক রাতে বাচ্চারা জানালার নিচে তার একটি জুতো রাখে, যদি ইউল ল্যাডের কেউ এই জুতো খুঁজে পায় আর বাচ্চাটি যদি ভাল থাকে তাওলে ইউল ল্যাড তার জুতোয় মিষ্টি রেখে যায়; বাচ্চাটি দুষ্টু হলে তার বদলে পঁচা আলু রেখে যায়।

এখনকার দিনে ইউল ল্যাড মিষ্টি বিলি করা মজার ক্রিসমাস ক্যারেক্টার হলেও, এদের ইমেজ সবসময় এমন ছিল না। আগেকার দিনে এদের বেশ ভয়ঙ্কর মনে করা হতো। এরা এতোটাই ভীতিকর ছিল যে, ১৭৪৬ এ আইসল্যান্ডের বাবা-মায়েরা এই ইউল ল্যাডের গল্প বলে বাচ্চাদের ভয় দেখানো নিষিদ্ধ করেছিল।

প্রত্যেক ইউল ল্যাডের তার ব্যাক্তিত্ব অনুযায়ী আলাদা আলাদা নাম রয়েছে। ডোর স্ল্যামার দরজায় গুতো মেরে শব্দ করতে ও বিশৃঙ্খলা করতে পছন্দ করে। বেঁটে আকারের স্ট্যাবি ফ্রাই প্যান থেকে খাবার চুরি করে। সসেজ সোয়াইপার সসেজ চুরি করতে ছাড়ে না। অন্যদের নাম রয়েছে যেমন ডোর স্নাইফার, স্পুন লিকার, ইউন্ডো পিপার ইত্যাদি।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: জাওয়ারট পিট

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

(kickstarter.com)

প্রতি বছর ক্রিসমাস এলেই একটি বিতর্ক দেখা যায়, জাওয়ারট পিট কি বর্ণবাদী ব্যঙ্গচিত্র? জাওয়ারট পিট একটি ডাচ ঐতিহ্য যেখানে লোকজন তাদের মুখে কালি মেখে ক্রিসমাস ফাদারের প্যারেডে সাহায্যকারী হিসেবে অংশ নেয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, আধুনিক বিশ্বের বদলে যাওয়া আদর্শে এই ঐতিহ্যকে বেমানান বর্ণবাদ বলে মনে করা হয়।

বাড়ির চিমনি দিয়ে নামে বলে এই চরিত্রটির গায়ের রঙ কাল, এমনটা দাবি করে জাওয়ারট পিটের সমর্থকেরা। কিন্তু এর বিপক্ষের লোকজন বলে এমন বড় লাল ঠোট, কোকড়ানো চুল এবং সোনার বিশাল কানের দুল এর সবই কালো ক্রিতদাসের ক্লাসিক বর্ণবাদী বৈশিষ্ট। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ডাচ সরকার প্যারেড থেকে জোয়ারট পিট বাদ দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে, এমনকি জাতিসংঘ থেকেও পুরনো ধারনা বলে পিটকে বাদ দিতে বলা হয়েছে।

ক্রিতদাস ব্যবসায় ডাচ ব্যবসায়ীদের ভূমিকা তাদের ইতিহাসের অংশ হলেও ডাচ লোকজন এখন এ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়। তবে এটা পরিষ্কার যে জাওয়ারট পিটের সমর্থক এবং বিরোধীরা আরও অনেক ক্রিসমাসে বিবাদে জড়াবে।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: ক্যাগনার

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

বিখ্যাত ব্যাক্তিতের আদলে ক্যাগনার (amusingplanet.com)

যীশুর জন্মের দৃশ্যের চেয়ে ক্রিসমাসে আর বেশি ঐতিহ্যের কি হতে পারে? সব পরিচিত চরিত্রে–ম্যারি, যোশেফ, জ্ঞানী ব্যক্তিরা, রাখাল ও প্রাণীরা একটা দৃশ্যে। কাতালোনিয়ায় এই দৃশ্যে পরিচিত সব পবিত্র চরিত্রগুলোর ছোট পুতুলের পাশে এমন একটি অদ্ভুত ক্রিসমাস ক্যারেক্টার রাখা হয়। মজার ব্যাপারে হল, ক্যারেক্টারটি কিনা মলত্যাগরত অবস্থায় এই দৃশ্যে দেখা যায়। আর এই মলত্যাগরত পুতুলকেই বলে ক্যাগনার। ভাবুনতো পবিত্র সব চরিত্রের পাশে আজব এক ব্যক্তি মলত্যাগের উদ্দেশে বসে আছে, কি অদ্ভুত!

ক্যাগনারের শুরু কবে থেকে তা অজানা। তবে অন্তত ২০০ বছর পুরনো এই রীতির প্রচলন ছিল কৃষক সম্প্রদায়ের মাঝে। যদি কারও বাড়িতে যীশুর জন্মের সময়ের এই দৃশ্যে ক্যাগনার না থাকতো তাহলে তাদের জন্য বছরটা নিশ্চিত খারাপ বলে ধরে নেওয়া হতো।

কারও কারও মতে এই ক্যাগনার একজন কৃষক বলে মনে করা হয়, যে কি না তার জমি উর্বর করে। যদি আসল ক্যাগনার একজন কৃষক হলেও বর্তমানে আপনি জনপ্রিয়, বিখ্যাত বা বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গের আদলে পুতুল কিনে নিতে পারবেন যারা একই ভাবে মলত্যাগরত অবস্থায় থাকবে।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: ক্রামপুস

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

ক্রামপুসের পোষাক পরিহিত দুই ব্যাক্তি

ক্রামপুস সবে মাত্র ক্রিসমাস ক্যারেক্টার হিসেবে পরিচিতি লাভ করা শুরু করেছে। যেখানে একসময় অর্ধেক ছাগলের মত দেখতে এই পিশাচের কথা মধ্য-ইউরোপের বাইরে খুব একটা শোনা যেত না। কিন্তু এখন তাকে ইংরেজি ভাষী দুনিয়ায় বিভিন্ন ভৌতিক সিনেমা, গল্পে এবং টিভি অনুষ্ঠানে দেখা যায়।

ফাদার ক্রিসমাসের মূল উৎসের অন্যতম সান্ত নিকোলাসের উৎসব হয় ডিসেম্বরের ৬ তারিখ। এর আগের রাতে হয় ক্রামপুসন্যাচ, যাকে একটি ক্রিসমাস উৎসব বলার চেয়ে হ্যালোইন উৎসব বেশি বলা যায়। বলা হয়, সান্ত নিকোলাস যখন মানুষের মাঝে আনন্দ ও উপহার বিতরণ করেন, তখন তার সাথী ক্রামপুস আসে দুষ্টুদের শাস্তি দিতে, এমন কি দুষ্টু শিশুদের তুলেও নিয়ে যায়।

বর্তমানে অনেক স্থানে, ছুটির মৌসুমে ক্রামপুস দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। পুরুষেরা ক্রামপুসের মত পোষাক পরে কাঁটাযুক্ত ডালপালা দিয়ে তৈরি ঝাড়ু হাতে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় দৌড়াতে থাকে খারাপ লোকদের সায়েস্তা করতে। একটা উপায়েই ক্রামপুসের মনোযোগ নষ্ট করা যায়, যদি তাকে কড়া অ্যালকোহল দেওয়া যায়।

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: মারি লুইড

ক্রিসমাস লোককাহিনী আর উদ্ভট সব ক্রিসমাস ক্যারেক্টার :: VuSuKu.Com

মারি লুইড (Creative Commons)

ব্রিটেন জুড়েই, পশুর মত পোষাক পরে প্যারেড করার অনেক প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। উৎসব পালনকারীরা পশুর মত পোষাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। ওয়েলসে, এই পোষকে থাকে ঘোড়ার কঙ্কালের মাথা। একেই বলে মারি লুইড

ক্রিসমাস ও নববর্ষে, একদল লোক এটা উদযাপন করে বাড়িতে বাড়িতে মারি লুইড প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। এসময় তারা গান গায় এবং অনেকে পবিত্র বাক্য পাঠ করে। বাড়ির বাসিন্দাকেও একই ভাবে পালটা জবাব দিতে হয়। যদি বাড়ির লোকেরা এদের মৌখিকভাবে পরাজিত করতে পারে, তাহলেই মারি লুইড সে বাড়িতে ঢুকে যা তাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়।

আরেক আজব ক্যারেক্টার সোফিয়া সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top