জানা-অজানা

গ্রিন ব্যাঙ্ক: মোবাইল-ওয়াইফাই বিহীন আমেরিকার নিরবতম শহর

গ্রিন ব্যাঙ্ক

আপনি যদি আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় গ্রিন ব্যাঙ্ক শহরটি যদি এক ঝলক দেখেন; তাহলে শহরটাতে নতুন কিছু পাবেন না স্বাভাবিকই মনে হবে। তবে এখানে যদি কিছু সময় কাটালে আজব কিছু খেয়াল করবেন; শহরটা কেমন যেন নিশ্চুপ ধরনের।

এর কারণ শহরের বাসিন্দাদের কোন টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ এমন কি কোন স্মার্টফোনও নেই। আসলে আপনি এই শহরের বাসিন্দা হলে আপনার জন্য এখানে এই ডিভাইসগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই ছোট্ট শহরটির বাসিন্দার সংখ্যা মাত্র ১৪৫। এই শহরের দিকে যতই এগিয়ে যাবেন, প্রথমে আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক কমতে শুরু করবে; এর পর দেখবেন রেডিওতে কোন স্টেশনও ধরছে না। আপনি যদি মোবাইল ওয়াইফাইয়ের ভক্ত হয়ে থাকেন, প্রথমবার হয়তো আপনি আতঙ্কিতই হবেন।

এমন নিশ্চুপ নিরবতার কারণ এই শহরটি কেন্টাকি বোর্ডার থেকে কয়েক মাইল দূরে; যা আলেঘেনি পর্বত বেষ্টিত। যেখানে রয়েছে ন্যাশলান রেডিও অ্যাস্ট্রনোমি ওবজারভেটরি, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘূর্ণনযোগ্য রেডিও টেলিস্কোপ চালনা করে।

গ্রিন ব্যাঙ্ক

কেমন এই গ্রিন ব্যাঙ্ক রেডিও টেলিস্কোপ?

বিজ্ঞানীরা এই রেডিও টেলস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহাণু চিহ্নিত করতে, এলিয়েনের সন্ধান করতে। পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে প্রায় সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে এটা ব্যবহার করে থাকে। গবেষকেরা এর মাধ্যমে ‘মহামিশ্বের প্রান্তে বিস্ফোরিত গ্যালাক্সির শব্দ শোনেন’। এ শব্দ কোটি কোটি মাইল দূরের আর ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর। এখানকার গবেষকেরা বলেন,

যদি ক্ষীণ শব্দ শুনতে চান, আপনাকে শব্দের পরিমাণকে নামিয়ে আনতে হবে।

১৭ মিলিয়ন পাউন্ডের মূল টেলিস্কোপটি ২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং ৪৮৫ ফুট উচু। আশেপাশে ২৭০০ একর পার্কল্যান্ড জুড়ে আরও ছোট ছোট টেলিস্কোপ রয়েছে। যেখানে আপনাকে যেতে হবে আপনার মোবাইল এবং ডিজিটাল ক্যামেরা ছাড়া। টেলিস্কোপটি ৮৫ সতাংশ জ্যোতিষ্কমন্ডলের উপর নজর রাখতে সক্ষম।
গ্রিন ব্যাঙ্কএকারণে গ্যারেজ ওপেনার ও মাইক্রোওয়েভ ওভেনসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক ডিভাইস গ্রিন ব্যাঙ্কে নিষিদ্ধ। এগুলো থেকে বিচ্ছুরিত রেডিও তরঙ্গ টেলিস্কোপের রিডিং এ বিচ্যুতি ঘটায়। এর ১৩ হাজার বর্গ মাইল অঞ্চলের মধ্যে যেন কেউ বৈদ্যুতিক ডিভাইস ব্যবহার না করে তা নজরদারি করতে রয়েছে সার্ভেইল্যান্স ট্রাক। এর ব্যত্যয় ঘটলে আপনি এখানে গ্রেফতারও হতে পারেন।

এই গ্রিন ব্যাঙ্ক অবজারভেটরি আসলেই কি খুঁজছে? ২০১৪ এ, এই টেলিস্কোপ আবিষ্কার করে একটি হাইড্রোজেন মেঘ; যা ১৫০ মাইল প্রতি সেকেন্ড গতিতে আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কি-ওয়ের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার হল, এই মেঘ আমাদের পর্যন্ত পৌছাতে ৩০ মিলিয়ন বছর সময় লাগবে।

গ্রিন ব্যাঙ্ক ‘আমেরিকার সবচেয়ে নিরব শহর’ বলে পরিচিতি লাভ করেছে। এর বাসিন্দারা আরেকটি নামে এই অঞ্চলকে ডেকে থাকে তাহল গ্রিন ব্যাঙ্ক টেলিস্কোপ বা GBT।

গ্রিন ব্যাঙ্ক

তবে দুঃসংবাদ হল এই টেলিস্কোপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন, যারা এই টেলিস্কোপটি তৈরিতে অর্থ ব্যায় করেছে এবং স্থাপনার জায়গাটির মালিক; বলেছে যে তারা এই টেলিস্কোপের ভবিষ্যত সম্পর্কে পুনরায় চিন্তাভাবনা করছেন। এমন কি এতকে বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে।

যদি এই টেলিস্কোপকে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে গ্রিন ব্যাঙ্কের জীবনযাত্রা চিরতরে পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

এছাড়াও পৃথিবীর আরও সুন্দর সুন্দর স্থানগুলো সম্পর্কে জানতে এখানে দেখুন।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top