ইতিহাস

জেনিচেরি: জনসাধারণের বন্ধু থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া এক সৈন্য বাহিনী

জেনিচেরি

জেনিচেরি (তুর্কী ينيچرى (yeniçeri), অর্থ “নতুন সৈনিক”) হল অটোমান সুলতান ও তার পরিবারের সুরক্ষায় নিয়োজিত স্থায়ী পদাতিক বাহিনী। চতুর্দশ শতকে অটোমান সুলতান প্রথম মাহমুদ মূলত বলকান যুদ্ধে বন্দি অ-মুসলিম বালকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠন করেছিলেন। জেনিচেরি সদস্যদের সম্পদ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুলতানের বিরুদ্ধে বার বার বিদ্রোহ করার কারণে ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এই বাহিনী বিলুপ্ত করেছিলেন।

জেনিচেরি

জেনিচেরি বাহিনীর এজটারগম অবরোধ (১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দ)।

১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দের কনস্টান্টিনোপল বিজয়, মিশরীয় মামলুকদের পরাজয় এবং হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ সহ অটোমান সাম্রাজ্যের সকল গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে জেনিচেরিদের ব্যবহার করা হয়েছিল। অভিযানে সব সময় অটোমান সুলতান নিজেই জেনিচেরি বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন, এবং যুদ্ধে বা অভিযানে প্রাপ্ত সম্পদের অংশ জেনিচেরি বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়াই প্রচলিত প্রথা ছিল। রোমান সাম্রাজ্যের পর, জেনিচেরি বাহিনীই ছিল প্রথম পূর্ণকালীন প্রশিক্ষিত স্থায়ী বাহিনী। বিশ্বের প্রথম সামরিক সঙ্গীত দল (ব্যান্ড) গঠনের কৃতিত্বও জেনিচেরি বাহিনীর। শুরুতে অত্যন্ত সুসজ্জিত এবং প্রযুক্তিগতভাবে উদ্ভাবনী হলেও, শেষের দিকে বাহিনীটি আধুনিকায়নে ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে, যুদ্ধে জেনিচেরি বাহিনীর সাফল্য দেখে ইউরোপের বিভিন্ন জাতি স্থায়ী বাহিনী গঠনে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। বলা হয় যে, জেনিচেরি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল কারণ এদের সুশাসনের অভিভাবক মনে করা হত। আধুনিক তুরস্কে সামরিক বাহিনীর ভূমিকায় এরই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। কোন সামরিক বাহিনীর জন্য এই ভূমিকা গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক, রাজনৈতিক সুবিধার কারনেই এই বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ইউরোপীয় শাসকরা জেনিচেরির মত নিয়মিত স্থায়ী বাহিনীর সুবিধাগুলো অনুধাবন করতে পেরেছিল, তাই নিয়োগ পদ্ধতির বিষয়টি বাদি দিয়ে, জেনিচেরি বাহিনীর আদলে তাদের নিজেদের বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিল।

জেনিচেরি বাহিনীর উৎপত্তি

জেনিচেরি

সুলতান এবং জেনিচেরি

নতুন অটোমান সাম্রাজের সুলতান প্রথম মুরাদ ১৩৬৫ খ্রিস্টাব্দে এই বাহিনী গঠন করেছিলেন। শুরুতে মামলুকদের সাথে যুদ্ধে বন্দি অ-মুসলিম বা খ্রিস্টান যুবকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠন করা হয়। জেনিচেরি গঠনে সুলতান মুরাদ ফুতুয়া মডেল গ্রহণ করেছিলেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছিলেন এবং এমন একটি সৈন্যদল তৈরী করতে চেয়েছিলেন যা তার প্রতি সর্বদা অনুগত থাকবে। ১৩৮০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান প্রথম মুরাদ জেনিচেরি সদস্য সংগ্রহ করতে “দেভসির্‌ম” প্রথার চালু করেছিলেন। “দেভসির্‌ম” হল ইহুদী বা তুর্কী পরিবারের বাইরে বলকান ও আনাতোলিয়া থেকে অ-মুসলিম বালকদের কর বা ট্যাক্স হিসেবে ক্রীতদাসে পরিণত করা হত। পরিবারের শিশু বালকদের কর হিসেবে পরিশোধের বিনিময়ে সে সকল পরিবারকে সুলতানের অধীনে স্বধর্ম পালন এবং বসবাসের অনুমতি প্রদান করা হত।

অটোমান সৈন্য বাহিনীকে ডাকা হত “কাপিকুলু” বলে, যার অর্থ “দরজার দাস”, এরা স্বাধীন ছিল না আবার সাধারণ দাসদের মতও ছিল না। জেনিচেরি বাহিনী এই কাপিকুলু বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। জেনিচেরি সদস্যদের কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা পালন করতে হত, তবে এরা নিয়মিত বেতন ও অবসরভাতা পেত। এছাড়া তারা তাদের নিজেদের আলাদা সামাজিক শ্রেণী তৈরী করতে পারত। যেমন, তারা তুর্কি অভিজাত শ্রেণীর মত শাসক শ্রেণীর সদস্য হতে পারত। প্রতিভাশালী সদস্য যাদের বয়স ৮ থেকে ২০ তাদের আরও উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রাসাদের বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “এনডেরান” এ পাঠানো হত। এদের ভবিষ্যতে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হত। এভাবে নিজের গুণ ও মেধার ভিত্তিতে একজন জেনিচেরি সদস্য বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হতে পারত।

জেনিচেরি

দেভসিরম-এর জন্য বালকদের নিবন্ধন। সুলাইমান নামা থেকে।

ইতিহাসবিদদের মতে তুর্কি প্রশাসনের লোকজন তাদের যার যার এলাকায় (বিশেষ করে বলকানে) প্রতি পাঁচ বছরে একবার সুলতানের এই বাহিনীর জন্য শক্তিশালী খ্রিস্টান বালকদের বাছাই করতেন। এই বালকদের (সাধারণত ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সের) তাদের পরিবার থেকে নিয়ে গিয়ে তুর্কি ভাষা, রীতিনীতি এবং ইসলামের নিয়ম কানুন শেখাতে এলাকার তুর্কি পরিবারের কাছে দেওয়া হত। নিয়োগপ্রাপ্তরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হত, তাদের খাৎনা বাধ্যতামূলক ছিল এবং এমনি কি দিন রাত ২৪ ঘণ্টা খোজাদের নজরদারিতে থাকতে হত। তাদের কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হত, এর সদস্যদের দাড়ি রাখা, সৈনিকবৃত্তি ছাড়া অন্য কোন পেশা গ্রহণ এবং বিয়ে করা নিষিদ্ধ ছিল। এ কারণে এই বাহিনী ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বাহিনী এবং পরবর্তীতে তারা সমাজের সম্ভ্রান্ত, উচু শ্রেণী নাগরিক অথবা প্রথম শ্রেণীর সামরিক সদস্য হয়েছিল।

অটোমান প্রাসাদ তোপকাপি সম্পর্কে জানতে ভুসুকুতে পড়ুন, তোপকাপি: অটোমান সাম্রাজ্যের স্বপ্নের আর অশ্রুতে সিক্ত এক প্রাসাদ

জেনিচেরি বাহিনীর গুরুত্ব

জেনিচেরি

জেনিচেরি সদস্যদের জন্য সুলতানের আয়োজিত ভোজ। খাবার প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সুলতানের সিদ্ধান্তে অসম্মতির ইঙ্গিত দেওয়া হত।

জেনিচেরি বাহিনী বিভিন্ন ভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। এর সদস্যরা আনুষ্ঠানিক পোষাক পরিধান করত, নিয়মিত সৈনিক হিসেবে তাদের বেতন ভাতা দেওয়া হত এবং তারা বর্তমান আধুনিক সামরিক সঙ্গীত ব্যান্ড দলের মত, যার নাম “মেহতার“, নির্দিষ্ট সঙ্গীতে কুচকাওয়াজ করত। এই সব বৈশিষ্ট্য সেই সময়কার সৈন্য বাহিনীগুলোর মধ্যে জেনিচারি প্রথম প্রচলন করেছিল।

রোমান সাম্রাজ্যের পরে ইউরোপে অটোমান জাতি  প্রথম যারা স্থায়ী বাহিনী গঠন করেছিল। এ বাহিনীকে রোমান প্রিটোরিয়ান গার্ডের সাথে তুলনা করা হয় এবং সে সময় ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের জেনিচেরি সমতুল্য কোন বাহিনী ছিল না, তখনকার সামন্ত রাজারা শুধু যুদ্ধের সময় সৈন্য সংগ্রহ ও সংগঠিত করত। একটি জেনিচেরি রেজিমেন্ট কার্যত ভাবে একটি সৈন্য পরিবার ছিল। এরা অভিযানে বা যুদ্ধে না থাকলে নির্দিষ্ট ব্যারাক বা শিবিরে বসবাস করতো এবং এ সময় তারা বড় বড় শহরে পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপন কর্মী হিসেবে কাজ করত।

জেনিচেরি বাহিনী নিয়মিতভাবে নগদ বেতন পরিশোধের দিক দিয়েও সতন্ত্র এবং সমসাময়িক সকল বাহিনীর চেয়ে আলাদা ছিল, অন্যদের শুধুমাত্র যুদ্ধের সময় বেতন পরিশোধ করার প্রচলন ছিল। এর সদস্যদের ত্রৈমাসিক অর্থ পরিশোধ করা হত এবং সুলতান নিজে, পাওনা বেতন আদায় করার পর, জেনিচেরি পোষাক পরিধান করে শিবির পরিদর্শন করতেন এবং প্রথম শ্রেণীর নিয়মিত সৈনিক হিসেবে নিজের বেতন গ্রহণ করতেন।

জেনিচেরি পদাতিক সৈনিক আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন এর সৈনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে যুদ্ধের ময়দানে তরবারি ও বর্শা সজ্জিত ঘোড়সওয়ারের তুলনায়ও তারা বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৫ শতকের শুরুতে, জেনিচেরিরা খুব জলদি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা শুরু করেছিল। ষোড়শ শতকে, জেনিচেরিদের প্রধান অস্ত্র ছিল মাসকেত , এক ধরনের বন্দুক। জেনিচেরিরা ব্যাপকভাবে শুরুর দিকের গ্রেনেড ও আবুস গানের মত হস্তচালিত কামান ব্যবহার করেছিল।

যুদ্ধে লড়াই ছাড়াও অন্যান্য সহায়ক কর্ম পদ্ধতিতেও সমসাময়িক বাহিনীগুলো থেকে জেনিচেরি বাহিনী আলাদা ছিল। যুদ্ধে লড়াই করা শুধুমাত্র এই সুপ্রশিক্ষিত বাহিনীর একটি অংশ ছিল। অটোমান সৈনিকদের রাস্তা তৈরীর আলাদা দল ছিল, তাদের অগ্রগামী দল ছিল কোথাও আগে পৌছে তাবু খাটানোর জন্য, আলাদা দল ছিল রুটি তৈরী করার জন্য। চেবেকি সদস্যরা গোলা-বারুদ ও অস্ত্র বহন ও বন্টন করত। এছাড়া বাহিনীতে তাদের নিজস্ব চিকিৎসক দল ছিল। অভিযানে সব সময় মুসলমান এবং ইহুদি শল্যচিকিৎসক দল  সৈন্যদলের সাথে ভ্রমণ করত। আহত ও অসুস্থদের যুদ্ধের বাইরে আনা নেওয়ার জন্য সুন্দর পদ্ধতি ও সুব্যবস্থা ছিল।

জেনিচেরি

জেনিচেরি মেহতার ব্যান্ড।

যুদ্ধের ফলাফল এবং যুদ্ধের বাইরের এই সতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো জেনিচেরি বাহিনী সম্পর্কে অধ্যায়নে অন্যান্য সাম্রাজ্যগুলোকে আগ্রহী করে তুলেছিল। আধুনিক সেনাবিহিনী ধারণায় এই বাহিনীর অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য সংযুক্ত করে, আরও উন্নত করা হয়েছে। অটোমান সাম্রাজ্য পতনের সাথে সাথে এই বাহিনী বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, পশ্চিমা মানসিকতায় গড়া সেনাবাহিনীতে এখনো জেনিচেরি বাহিনীর প্রতিচ্ছবি অটোমান প্রতীক হয়ে আছে। এই বাহিনী এখন না থাকলেও সাংস্কৃতিক ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে এখনও এই ঐতিহ্যবাহী মেহতার সঙ্গীত বাজানো হয়।

জেনিচেরি বাহিনীর গঠন

জেনিচেরি

যুদ্ধে জেনিচেরি বাহিনী। (dighist.fas.harvard.edu)

জেনিচেরি বাহিনীর আকার বা শক্তি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছিল। জেনিচেরি সদস্য সংখ্যা ১০০ থেকে ২০০,০০০ এরও অধিক হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে চতুর্দশ শতাব্দিতে জেনিচেরি সদস্য সংখ্যা ছিল ১০০০ এবং ১৪৭৫ খ্রিস্টাব্দে তা দাঁড়ায় প্রায় ৬০০০ এ, আর প্রাদেশিক সৈনিক ছিল প্রায় ৪০,০০০। ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দের পরাজয়ের পরে, এই সংখ্যা কমে গিয়েছিল, কিন্তু আঠারো শতকে অটোমান গণনায় সৈনিকের সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ১১৩,৪০০; তবে এর মধ্যে বেশির ভাগই দুর্নীতির মাধ্যমে বাহিনীতে ভর্তি হয়েছিল যারা আসলে সৈনিক ছিল না এবং শুধু বেতন ভাতা গ্রহণ করেছিল।

এই বাহিনী অনেকগুলো রেজিমেন্টে বিভক্ত ছিল, এক একটি রেজিমেন্টকে বলা হত “ওরতা”। প্রত্যেকটি ওরতার একজন প্রধান থাকত, যাকে বলা হত “কোরবাচি”। সকল ওরতা মিলে জেনিচেরি বাহিনী গঠিত হত এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক নাম ছিল “ওচাক”। প্রথম সুলাইমানের সময়ে ওরতা সংখ্যা ছিল ১৬৫টি, কিন্তু কালক্রমে বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৬ এ। সৈনিকদের বিশেষ করে জেনিচেরিদের সর্বোচ্চ কমাণ্ডার ছিলেন অটোমান সুলতান, তবে বাহিনী সংগঠিত এবং নেতৃত্ব দিত একজন আগা (কমাণ্ডার)। বাহিনী আবার তিনটি উপ-বাহিনীতে বিভক্ত ছিলঃ জেমাত বা অগ্রগামী সৈনিক, বেলিক বা সুলতানের দেহরক্ষী, সেকবান বা সহায়ক সৈনিক।

Solaks

সোলাক, অটোমান সুলতানের দেহরক্ষী তীরন্দাজ।

জেনিচেরিদের পদোন্নতি হত মূলত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এবং তা হত নিজের ওরতার মধ্যে। একজন  সৈনিক কেবলমাত্র কমাণ্ডারের নির্দেশেই ইউনিট ত্যাগ করতে পারত। কেবলমাত্র নিজের কমাণ্ডিং অফিসারই একজন জেনিচেরিকে শাস্তি দিতে পারত। এর সদস্য মহান অটোমান সুলতানের গোলাম এটা প্রকাশ করতে তাদের পদের নাম ছিল রন্ধনশালার কর্মচারী বা স্বীকারের সৈনিক পদের নামানুসারে।

প্রতিষ্ঠার প্রথম শতাব্দীতে, জেনিচেরি সৈন্যরা তুখোড় তীরন্দাজ ছিল, কিন্তু ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র আবিষ্কৃত হওয়ার সাথে সাথেই তা ব্যবহার আত্মস্থ করেছিল। ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা অবরোধের সময় জেনিচেরি প্রকৌশলীদের সুনাম ছড়িয়ে পরে। মেলি যুদ্ধে তারা কুড়াল এবং সাবের নামে এক ধরনের তরবারি ব্যবহার করেছিল।

১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান চতুর্থ মেহমেত দেভসির্‌ম প্রথা বিলুপ্ত করলে এই বাহিনীর খ্যাতি ও চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল, কারণ এতে মুসলাম তুর্কি পরিবারের ছেলেদের একটি আকর্ষণীয় কর্মজীবনের আশায় এই বাহিনীতে ভর্তির সুযোগ তৈরী হয় এবং তখন এই ধরনের মুসলমান পরিবারের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল। এমন কি তখন প্রত্যেক রাজ্যশাসক তাদের নিজস্ব জেনিচেরি সৈন্য চেয়েছিল।

জেনিচেরি বিদ্রোহ

যখন জেনিচেরিরা তাদের নিজেদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়, তখন তারা একটি ভাল জীবনের বাসনা করতে শুরু করেছিল। ১৪৪৯ খ্রিস্টাব্দে জেনিচেরিরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে প্রথম বিদ্রোহ করেছিল এবং তাদের দাবি আদায় হয়েছিল। পরের শতক গুলোতে ঠিক একই ধরনের অবস্থা আরও কয়েকবার তৈরী হয়েছিল। এভাবে এই বাহিনীর হাতে আরও ক্ষমতা ও সম্পদ জমা হয়েছিল, এতে আস্তে আস্তে সদস্যরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পরেছিল এবং সামগ্রিকভাবে একটি অকার্যকর গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছিল। অবশেষে ১৮২৬ সালে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এই বাহিনী ভেঙে দিতে সফল হন। অটোমান সুলতান এরপর ইউরোপীয়দের আদলে সৈন্যদল গঠন করেছিলেন, সৈনিকদের প্রশিক্ষণ দিতে ইউরোপীয় প্রশিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেন। হাস্যকর ব্যপার হল, জেনিচেরি বাহিনীর সাফল্য দেখে ততদিনে ইউরোপীয়রা ভালভাবেই পেশাদার ও সুপ্রশিক্ষিত একটি সৈন্য বাহিনীর মূল্য উপলব্ধি করতে পেরেছিল।

তথ্যসূত্রঃ

  • encyclopedia.com এর Janissaries অবলম্বনে।

 

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top