ইতিহাস

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এর কয়েকটি বিস্ময়কর প্রযুক্তি ও অস্ত্র

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বিংশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য ঘটনার একটি। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত এই যুদ্ধে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ অঞ্চল জড়িত ছিল। প্রযুক্তি ইতিহাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এই যুদ্ধে অনেক নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং এটাই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ যেখানে রেডিও, বৈদ্যুতিক শক্তিসহ অন্যান্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা পক্ষ “লাভবান” হয়েছিল।

শুরু থেকেই যুদ্ধে জড়িতরা জানতো প্রযুক্তি যুদ্ধের ফলাফলের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব তৈরী করবে। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ অ্যাডমিরাল জ্যাকি ফিশার লিখেছিলেন, “উদ্ভাবনই এই যুদ্ধে জিততে যাচ্ছে।” ট্যাঙ্ক, জেপলিন, বিষাক্ত গ্যাস, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ও মেশিনগানের মত নতুন অস্ত্র হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল এবং যুদ্ধকে বেসামরিক লোকজনের কাছে নিয়ে এসেছিল। এই যুদ্ধেই জার্মানরা প্রথম লম্বা পরিসীমার (৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার) বন্ধুক দিয়ে প্যারিসে গোলা ছুড়েছিল; লন্ডনে জেপলিন করে আকাশ থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল।

আসুন জেনে নেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এর কয়েকটি বিস্ময়কর প্রযুক্তি ও অস্ত্র এর কথা যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে এগুলোর আরও উন্নতি ঘটেছিল।

ট্যাংক

Little Willie early design

প্রথম ব্রিটিশ ট্যাংক “লিটল উইলি” এর শুরুর দিকের নকশা।

‘স্থল যুদ্ধজাহাজ’ এর ধারণার জন্ম হয়েছিল মধ্যযুগে; এর অন্যতম নকশা পাওয়া যায় লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা ছবিতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এই বহুল প্রতিক্ষিত অস্ত্রটি বাস্তবতায় রূপ নেয়। ব্রিটিশরা গোপনে এই ধরনের অস্ত্র তৈরী করা শুরু করলেও, তা আটকে যায়। ব্রিটিশরা এর নাম দেয় ‘ট্যাংক’। তবে ফরাসিরাও পাশাপাশি রেনাল্ট আরটি হালকা সাঁজোয়া গাড়ি তৈরী করা শুরু করে। ফরাসিদের গাড়ির উপরে একটি মঞ্চ ছিল যা ঘুরতে পারতো, কিন্তু এ ধরনের কিছু ব্রিটিশ ট্যাংক নকশায় ছিল না।

Bundesarchiv Bild 146-1974-050-12, Westfront, deutscher Panzer A7V

জার্মান A7V ট্যাংক।

প্রথম ব্রিটিশ ট্যাংক “লিটল উইলি” ছিল প্রায় ১৪ টন ওজনের। এর সর্বোচ্চ গতি ছিল মাত্র ঘন্টায় ৩ মাইল। কিন্তু প্রায়শই এগুলো ভেঙে পরত। যুদ্ধে ভালো উন্নত ট্যাংকগুলো পাঠানো হলেও, এই ভাঙন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, এ কারণে অনেক কমান্ডার বিশ্বাস করতো যে ট্যাংক কখনো যুদ্ধে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারবে না। যুদ্ধে ব্রিটিশ ও ফরাসিরা তাদের ট্যাংক নামালে এর প্রতিক্রিয়ায় জার্মানরা একটি সাঁজোয়া যুদ্ধ যান তৈরী করে। যা ছিল এই যুদ্ধে জার্মানদের একমাত্র নিজস্ব নকশা, A7V। এটি দেখতে ছিল ভয়ঙ্কর কিন্তু উদ্ভট। এর উচ্চতা ছিল এক-তলা বাড়ির সমান।

ফ্লেমথ্রোয়ার

Bundesarchiv Bild 146-1996-057-10A, Warschauer Aufstand, Soldat mit Flammenwerfer

জার্মান সৈন্যরা এমন ভাবে ভবনগুলোতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিত যেন শত্রু পক্ষ আর তা পুনরায় ব্যবহার করতে না পারে।

প্রাচীন চীনে পদাতিক বাহিনী বিভিন্ন ধরনের অগ্নি-নিক্ষেপক বা ফ্লেমথ্রোয়ার ডিভাইস ব্যবহার করার নজির পাওয়া যায়। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় সাউথার্ন পত্রিকাগুলো দাবি করে আব্রাহাম লিঙ্কন এ ধরনের অস্ত্র দেখছেন। তবে হাতে বহনযোগ্য ফ্লেমথ্রোয়ারের ব্যবহার প্রথম রেকর্ড করা হয় ১৯১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। ঐদিন জার্মানরা প্রথম এই অস্ত্র ব্যবহার করে ভার্দুনের কাছে, মালানকোর্টে। পিঠে নাইট্রোজেনের ট্যাংক বহনকারীর হাতে চিকন নজেলের মাধ্যমে জ্বালানী নির্দিষ্ট দিকে স্প্রে করা হয়। পুরো যুদ্ধে জার্মানরা প্রায় ৩,০০০ এ ধরনের সৈনিক নিযুক্ত করে; যারা ৬৫০ টি অগ্নি-নিক্ষেপক আক্রমণ চালায়। ব্রিটিশ ও ফরাসি উভয়ই অগ্নি-নিক্ষেপক অস্ত্র তৈরী করে কিন্তু তারা এমন ব্যাপক ব্যবহার করেনি।

রাইফেল

M1903-Springfield-Rifle

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার সৈন্যদের ব্যবহৃত স্প্রিংফিল্ড রাইফেল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িত সব রাষ্ট্রই একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল। সবচেয়ে বেশি যে রাইফেলগুলো যোদ্ধারা ব্যবহার করেছিল তা হল লি-এনফিল্ড .303 (ব্রিটেইন ও কমনওয়েলথ), লেবেল এন্ড বার্থিয়ার 8mm (ফান্স), মানলিচার-কারকারনো M1891, 6.5mm (ইতালি), মসিন-নাগান্ত M1891.62 (রাশিয়া), এবং স্প্রিংফিল্ড 1903.30-06 (আমেরিকা)। কেন্দ্রীয় শক্তিগুলো ব্যবহার করেছিল স্টেয়ার-মানলিচার M95 (অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং বুলগেরিয়া), মাউসার m98G 7.92mm (জার্মানি), এবং মাউসার M1877 7.65mm (তুরষ্ক)। আমেরিকার স্প্রিংফিল্ড এর নকশা মাউসার M1989 এর খুব কাছাকাছি হওয়ায় আমেরিকা যুদ্ধে জড়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাউসারকে প্রথম বিশ্বযদ্ধ চলাকালীন সময় লাইসেন্স ফি দিতে বাধ্য হয়েছিল।

বিষাক্ত গ্যাস

The US Army on the Western Front, 1917-1918 Q72920

ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে আমেরিকান সৈন্যদের তৈরী বিষাক্ত ধোঁয়া।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ১৯১৫ সালের ২২ এপ্রিল, বেলজিয়ামের ওয়াইপ্রেস এলাকায়; জার্মানরা কামানের গোলা হিসেবে ক্লোরিন গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার ব্যবহার করে। এইটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রথম গ্যাস আক্রমণ। অন্যান্য দেশও নিজেদের গ্যাস অস্ত্র তৈরীতে প্রতিযোগিতায় নামে। উভয় পক্ষই তাদের শত্রু বাহিনীর দিকে ছোড়া গ্যাসের তীব্রতা ও স্থায়ীত্ব বাড়ানোর উপায় খুঁজতে থাকে। ক্লোরিন গ্যাস চোখে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রে আক্রমণ করে; মাস্টার্ড বা সরিষা গ্যাসও একই কাজ করে, তবে এর সাথে খোলা ত্বকে ফোসকা তৈরী করে। তুলনামূলকভাবে এই গ্যাসে কম লোকজন মারা গেছে। বেশিরভাগ আক্রান্তরা কিছু চিকিৎসা নেওয়ার পরে কাজে ফিরতে পারে। তবে এই অস্ত্র সাময়িকভাবে একটা বড় সংখ্যা সৈন্যদের সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে পারে। যেখানে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয় সেখানে এটা বেশ আতংক তৈরী করে। যুদ্ধের পরে এই বিষাক্ত গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও পরবর্তী কিছু সংঘর্ষে যেমন ১৯৮০-৮৮ সালের ইরাক-ইরান যুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।

যুদ্ধবিমান

Salmson 2 WW1 recon aircraft

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এর আকাশ যুদ্ধ এখনকার সময়ের মতই সবাইকে বিমুগ্ধ করে। এই আশ্চর্যজনক নতুন প্রযুক্তি অনেক সামরিক এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কার্যকরী প্রমাণিত হয়। লম্বা উড়োজাহাজে মেশিনগান যুক্ত করার আগ পর্যন্ত বিমান ব্যবহৃত হত প্রাথমিক নিরীক্ষার কাজে। যখন এন্টনি ফোকার বিমানের প্রোপেলারের ঘূর্ণনের সাথে মেশিনগানের গুলি ছোরার বিষয়টা সমন্বয় করার একটা উপায় খুঁজে পেলেন তখনই বিমান সত্যিকারের অস্ত্রে পরিনত হয়েছিল।

Zeppelin-Staaken R.XIV WW1 aircraft 3

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত জার্মান বোম্বার ‘জায়ান্ট’।

শুরুর দিকে বিমানের নকশা ছিল খেলনার মত, দূর্বল, ঘুড়ির মত হালকা কাঠ, ফেব্রিক ও তারের তৈরী। ১৯১৪ সালে বিমানের গতি ছিল সর্বোচ্চ ১০০ মাইল প্রতিঘন্টা। এর ইঞ্জিন ছিল মাত্র ৮০-১২০ হর্সপাওয়ারের। চার বছর পর গতি বেড়ে হয়েছিল প্রায় দ্বিগুণ। সে তুলনায় পাইলটের সুরক্ষা ছিল যৎসামান্য। বেশিরভাগ পাইলট বহনকারী প্যারাস্যুটে মোটেও ভরসা করতো না। পর্যায়ক্রমে একাধিক ইঞ্জিন বিশিষ্ট বোমারু বিমান তৈরী হয়; এদের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি ছিল জার্মানির তৈরী। এর পাখা ছিল ১৩৮ ফুট ছড়ানো আর ইঞ্জিন ছিল চারটি, আকৃতির কারণে একে “জায়ান্ট” বলে ডাকা হত। এর পরিসীমা ছিল ৫০০ মাইল আর এতে ৪,৪০০ পাউন্ড ওজনের বোমা বহন করা যেতো। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ‘লন্ডন বোম্বিং’ এর মত লম্বা-পরিসীমার অপারেশনে ‘জায়ান্ট’ এর অর্ধেক পরিমাণ বোমা বহন করেছিল।

সাবমেরিন

German UC-1 class submarine

জার্মান UC-1 শ্রেণীর সাবমেরিন

১৯০৬ সালে জার্মানি তৈরী করে তাদের ‘আন্টারজিবুট’ (আন্ডারসি বোট বা ইউবোট)। এর আগেই ব্রিটেন, ফান্স, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশই সাবমেরিন বাহিনী তৈরী করে। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাবমেরিন ব্যবহৃত হয় বিশেষত ইম্পেরিয়াল জার্মান নৌবাহিনীতে। যুদ্ধে ব্রিটেনের রয়াল নৌবাহিনীর চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হলে ইম্পেরিয়াল জার্মান নৌবাহিনীর সাবমেরিনগুলো তাদের ক্ষতিগ্রস্থ নৌশক্তির ঘটতি মেটাতে ব্রিজ হিসেবে কাজ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এর সময়েই লম্বা-পরিসীমার ইউ-বোট এবং উন্নত টর্পেডো তৈরী হয়। সাবমেরিন সাগর তলে লোকচক্ষুর আড়ালে যেমন টর্পেডো আঘাত আনতে পারে তেমনি সাগরের উপরেও ডেকে থাকা বন্দুকের ব্যবহার করতে পারে। সাবমেরিন ব্যবহারের কৌশল এমন ছিল লুকিয়ে কোন নৌবহরে ঢুকে জেগে উঠবে, আক্রমণ করবে এবং ডুব দেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এর পরে যুদ্ধে সাবমেরিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল যেমনটা বিষাক্ত গ্যাসের বেলায় হয়েছিল।

বিমানবাহী জাহাজ

Wn21-05

এইএমএস হাইবারনিয়াতে বিমান উত্তোলন

প্রথম কোন বিমান কোন চলন্ত জাহাজ থেকে উড়ে যায় ১৯১২ সালের মে মাসে। ওয়েমাউথ বে থেকে বিমানটি ‘এইএমএস হাইবারনিয়া’ নামের জাহাজের ডেকে তৈরী র‍্যাম্প থেকে উড়ে যায়। ছোট S.27 পন্টুন বাইপ্লেনটির পাইলট ছিলেন কমান্ডার চার্লস রুমনে স্যামসন। হাইবারনিয়া আসলে সত্যিকার অর্থে বিমানবাহী জাহাজ ছিল না। এর ডেকে বিমান সরাসরি অবতরণ করতে পারতো না। বিমান আগে পানিতে অবতরণ করতো এবং পরে উড্ডয়নের জন্য জাহাজে তোলা হত। পুরো প্রক্রিয়া বেশ সময় সাপেক্ষ ছিল।

HMS Furious-15

এইএমএস ফিউরিয়াস।

আসল বিমানবাহী জাহাজ ছিল ‘এইএমএস ফিউরিয়াস’, যা তৈরী হয়েছিল ৭৮৬ ফুট লম্বা রণতরী হিসেবে যাতে দুটো বিশালাকার ১৮ ইঞ্চি বন্দুক ছিল। ব্রিটিশ নৌপ্রকৌশলীরা যখন বুঝতে পারলো এই বিশালাকার বন্দুকের ঝাঁকুনিতে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তখন তারা জাহাজটির বিকল্প ব্যবহারের কথা চিন্তা করলো। তারা বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য লম্বা পাটাতন তৈরী করলো। উড্ডয়ন ও অবতরণে জন্য বেশি জায়গার ব্যবস্থা করতে বিমানগুলো রানওয়ের নিচে হ্যাঙ্গারে রাখা হয়েছিল এখনকার আধুনিক বিমানবাহী জাহাজের মত। স্কোয়াড্রন কমান্ডার এডোয়ার্ড ডানিং ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি চলন্ত কোন জাহাজে বিমান অবতরণ করান। তিনি ১৯১৭ সালের ২ আগষ্ট একটি সোপউইথ পাপ বিমান ফিউরিয়াসে অবতরণ করান।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার

বিমানের শুরুর দিকে, একবার বিমান মাটি ত্যাগ করলে পাইলট একরকমের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরতেন। প্রচলিত সংকেত ব্যবস্থা নিশান বা বাতি ছাড়া পৃথিবী থেকে কোন রকমের তথ্য পাওয়া সম্ভব ছিল না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এর সময় এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটায় ইউএস আর্মি, যখন তারা বিমানে প্রথম রেডিও যোগ করে যা উভয় মুখি যোগাযোগে সক্ষম। সান ডিয়েগোতে ১৯১৫ সালে এটা তৈরী শুরু হয়, ১৯১৬ সালে টেকনিশিয়ানরা ১৪০ মাইল দূরে একটি রেডিও টেলিগ্রাফ পাঠাতে সমর্থ হয়। উড়ন্ত বিমানের সাথেও রেডিও টেলিগ্রাফ বার্তা আদান প্রদান করা হয়। সর্বশেষে, ১৯১৭ সালে ভূমিতে থাকা অপারেটর মানুষের কণ্ঠস্বর রেডিওর মাধ্যমে উড়ন্ত বিমানে সঞ্চালিত করা সম্ভব হয়।

সেনিটারি ন্যাপকিন

রজঃস্রাব মোকাবেলায় মহিলারা ঐতিহ্যগতভাবেই তাদের সকল ডিসপোজাবল বা ধোয়া যায় এমন সব জিনিষের তৈরী করেছিলেন। প্রাচীন ইতিহাসে মিশরে নরম প্যাপিরাসের ব্যবহারও পাওয়া যায়। তবে আধুনিক স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরী করা সম্ভব হয়েছিল যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এর সময় এক ধরনের সেলুলোজ ব্যান্ডেজ আবিষ্কৃত হয়। ফরাসি নার্সরা প্রথম এই সেলুলোজ ব্যান্ডেজ ব্যবহার শুরু করে যা আগের যেকোন ব্যান্ডেজের চেয়ে বেশি পরিষ্কার এবং বেশি শোষণ ক্ষমতা রাখে। ব্রিটিশ ও আমেরিকার নার্সরাও এই ব্যান্ডেজ সহসাই ব্যবহার শুরু করে। ১৯২০ সালে আমেরিকান করপোরেট প্রতিষ্ঠান কিম্বারলে-ক্লার্ক প্রথম বাণিজ্যিক স্যানিটারি ন্যাপকিন বাজারে আনে। যার নাম ছিল কোটেক্স, যা কটন ও টেক্সারের মিলিত রূপ।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top