ইতিহাস

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহতম বিমান দূর্ঘটনা ঘটে গেল ১২ মার্চ ২০১৮ তারিখে। এই দিন বাংলাদেশী বেসরকারী মালিকানাধীন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২১১ (Bombardier Dash 8 Q 400) নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কাছে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয়। এই বিমান দূর্ঘটনায় ৪ জন ক্রু সহ মোট ৭১ যাত্রীর মধ্যে ৫১ জন যাত্রী নিহত হয় এবং ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। স্বাধীনতা পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন এয়ারলাইন্সের বিমান দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। আসুন জেনে নেই বাংলাদেশের বিমান দূর্ঘটনার কিছু তথ্য।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্সের Bombardier Dash 8 Q400 উড়োজাহাজ।

বাংলাদেশের প্রথম বিমান দূর্ঘটনা ঘটে ১৯৭২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি তারিখে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ Douglas DC-3 প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর ঢাকার কাছে তা বিধ্বস্ত হয়েছিল। এ দূর্ঘটনায় উড়োজাহাজের ৫ জন্য যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

হিথ্রো বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার DC-3। (Wikimedia Commons)

১৯৭৯ সালের ১৮ নভেম্বর একটি এফ ২৭-২০০ (Fokker F-27 Friendship 200) উড়োজাহাজ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর ঢাকার সাভার বাজারে কাছে একটি মাঠে জরুরি অবতরণ করে। উড়োজাহাজের দুটো ইঞ্জিনেই আগুন ধরে গেলে, তা জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল। উড়োজাহাজের ৪ জন্য যাত্রীর সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

এফ ২৭-২০০ বা Fokker F-27 Friendship 200 মডেলের একটি উড়োজাহাজ।

১৯৮০ সালের ৩ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের পায়া লেবার বিমানবন্দর থেকে “City of Bayezed Bostami” নামধারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ঢাকার তেঁজগাও বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। Boeing 707-373C মডেলের উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের পর মাত্র ১০০ ফুট উচ্চতায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে পুনরায় রানওয়ের দিকে ফিরে আসার সময় রানওয়ে থেকে প্রায় ২০০০ ফিট দূরত্বে পিছলে যায়। রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজের ৪টি ইঞ্জিনই বিকল হয়েছিল। এতে ৯ জন্য ক্রু সহ মোট ৭৪ জন্য যাত্রী ছিল। কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও উড়োজাহাজটির এতটাই ক্ষতি হয়েছিল যে মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের Boeing 707-373C। (aviation-safety.net)

উড়ন্ত বিমানে যাত্রীদের অদ্ভুত সব আচরণের কথা জানতে ভুসুকুতে পড়ুন, আকাশে উড়ন্ত বিমানে উলঙ্গ আর বিচিত্র আচরণের ফিরিস্তি

১৯৮৪ সালের ৫ আগষ্ট তারিখে চট্টগ্রাম-পতেঙ্গা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করে। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এফ ২৭-৬০০ (Fokker F-27 Friendship 600) মডেলের উড়োজাহাজটি কয়েকবার অবতরণের ব্যর্থ চেষ্টার পর শেষবার রানওয়ে শুরু হওয়ার প্রায় ৫৫০ মিটার পূর্বেই মুখ থুবড়ে পরে। উড়োজাহাজে ৪ জন্য ক্রু ও ৪৫ জন্য সাধারণ যাত্রী ছিল। মোট ৪৯ যাত্রীর সকলেই নিহত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের Fokker F-27 Friendship 600 (১৯৭৫)। (aviation-safety.net)

১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে সিলেটগামী BG609 (Fokker F-28 Fellowship 4000) ফ্লাইটটি কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বেলি ল্যান্ডিং বা চাকা ছাড়াই শরীরের উপর একটি ধান ক্ষেতে অবতরণ করে। উড়োজাহাজে ৪ জন্য ক্রু সহ মোট ৮৯ জন্য যাত্রী ছিলেন। হতাহতের কোন ঘটনা না ঘটলেও উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়েছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

ধান ক্ষেতে জরুরী অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের Fokker F-28 Fellowship 4000 বিমান। (aviation-safety.net)

১৯৯৮ সালের ২৭ জুন এয়ার পারাবতের একটি উড়োজাহাজ (Let L-410UVP-E) ঢাকার তেঁজগাও বিমানবন্দর থেকে ইশ্বরদী বিমানবন্দর যাওয়ার পথে আকাশেই বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার অদূরেই এক মাঠে বেলি ল্যান্ডিং করতে বাধ্য হয়েছিল। এতে ২ জন ক্রু সহ ৭ যাত্রী সবাই অক্ষত অবস্থায় ছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

এয়ার পারাবতের Let 410UVP-E S2-ADD বিমান। (aviation-safety.net)

২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG601 (Fokker F-28 Fellowship 4000) ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে আসার সময় সিলেটের ওসমানি বিমানবন্দরে বৃষ্টিপাতের কারণে পিচ্ছল রানওয়ে পার করে আরো ১৫০ ফুট অতিক্রম করে যার ফলে উড়োজাহাজটি ২৫ ফুট চওড়া ও ১৫ ফুট গভীর খালে গিয়ে পড়েছিল। এতে ৪ জন ক্রু সহ ৮৩ জন যাত্রী ছিল। কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও উড়োজাহাজটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দুর্ঘটনা

খালের গর্তে মুখ থুবড়ে পরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের F-28। (pprune.org)

২০০৫ সালের ১ জুলাই তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই আন্তর্জাতিক রুটে চলা একটি বিমান (McDonnell Douglas DC-10-30ER) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবার সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। অবতরণের সময় চালকের ভুলে বিমানের ডানদিক হেলে যায় এবং ডানদিকের পাখার একটি ইঞ্জিন খুলে আগুন ধরে যায়। বিমানের সব যাত্রী বের হয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল তবে কিছু যাত্রী সামান্য আহত হয়। বিমানে ১৫ জন ক্রু সহ ২১৬ জন যাত্রী ছিল। যাত্রীদের তেমন ক্ষতি না হলেও কয়েকজন ক্রু এতে আহত হয়েছিল। তবে নিঃসন্দেহে বিমানের যাত্রীরা বড় একটি দূর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

রানওয়ে থেকে ছিটকে পরা বিমান বাংলাদেশের DC-10 উড়োজাহাজ। (gettyimages.com)

২০১৬ সালের ৯ মার্চ ট্রু এভিয়েশনের একটি কার্গো বিমান (Antonov 26B) কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যে বিমানটি সমুদ্র সৈকতের কাছে অগভীর জলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে বিমানে থাকা ৪ জন ইউক্রেনীয় ক্রু এর ৩ নিহত হয় এবং অন্যজন গুরুতর আহত হয়েছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিমান দূর্ঘটনা

কক্সবাজারের কাছে বিধ্বস্ত ইউক্রেনীয় কার্গো বিমান। (india.com)

 

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top