ইতিহাস

মাও সেতুং এর শাসনামলে চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

মাও সেতুং এর অধীনে চীনের বাসিন্দাদের জীবন ছিল অদ্ভুত এবং বর্বর। তিনি যখন চীনের অধিপতি ছিলেন, এমন কিছু নিয়ম নীতি চালু করেছিলেন, যা তেমন কার্যকরী ছিল না বরং এতে তার নিজেরই ৫-৭ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল। মাও সেতুং এর ব্যক্তিত্ব চীনাদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় ও পূজণীয় ছিল যে, তার প্রভাবে চীনের মানুষ একটু অদ্ভুত স্বভাবের হয়ে গিয়েছিল। এ সময়কার চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা বা অজানা গল্প রয়েছে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

আম পেয়ে মাও এর লোকজনের মাথা খারাপ হয়েছিল

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

আমের পূঁজা (The Telegraph)

১৯৬৮ সালে, পাকিস্তানের তৎকালীন এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাও সেতুংকে উপহার হিসেবে এক ঝুড়ি আম পাঠিয়েছিলেন। মন্ত্রীর কাছে, এটা একটা সাধারণ সৌজন্যতা ছাড়া কিছুই ছিল না, কিন্তু চীনে এতে আলোড়ন ও উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছিল।

মাও তার প্রচার দলের কিছু সদস্যের কাছে আমগুলো দেন, কিন্তু ব্যাপারটা তারা এমনভাবে নিয়েছিল এবং এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল যেন, মাও স্বর্গ থেকে কোন দেবদূতকে ধরে নিয়ে এসে তাদের সামনে দিয়েছিলেন। দ্যা পিপলস ডেইলি দৈনিকের একটি লেখায় লিখেছিল যে, আম পাওয়ার খুশিতে “তাদের সকলের চোখে জল ছিল” আর তারা “আনন্দে আত্মহারা হয়ে চিৎকার ও উল্লাসে ফেটে পরেছিল”।

একটি টেক্সটাইল কারখানায় তাদের আমটি একটি মঠের উপর রেখে তা এমন জায়গায় স্থাপন করেছিল যেন, শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশের সময় সেই আমের সামনে দিয়ে যেতে পারে এবং সম্মান দেখিয়ে কারখানায় ঢুকতে পারে। আমটি যখন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তখন তারা আমটির একটি প্রতিকৃতি তৈরি করে মঠের উপরে স্থাপন করেছিল যাতে শ্রমিকরা আমের পূঁজা সেরে নিয়ে দিনের কাজ শুরু করতে পারে।

আমকে মিষ্টি আলুর সাথে তুলনা করায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

সত্যিই কি আম দেখতে মিষ্টি আলুর মতন!

তখন বেশিরভাগ চীনা লোক আগে কখনই আম দেখেনি, একজন ব্যক্তির জন্য গ্রীষ্মকালীন এই রসালো ফলটি দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা এমন ছিল যেন এটা জীবনের বড় কোন একটা অর্জন। তখন সবার এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল।

এক দন্ত্যচিকিৎসকের সুযোগ হয়েছিল একটি আম দেখার, কোন কারণে আমটি দেখে সে তেমন মুগ্ধ হয়নি। সে আমকে মিষ্টি আলুর মত বলে নিন্দা করেছিল, যা লোকজনকে তার উপর ক্রুদ্ধ করে তুলেছিল।

দন্ত্যচিকিৎসককে “বিপ্লববিরোধী বক্তব্য” দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।  তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং কিছু দিন পরে আমকে মিষ্টি আলুর মত দেখতে বলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কেউ আর আম নিয়ে উপহাস করার সাহস করেনি।

মাও যুগে ডাকটিকিট সংগ্রহ ছিল অপরাধ

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

১৯৫০ সালের একটি চীনা ডাকটিকিট। (Wikimedia Commons)

মাও সেতুং তার দেশে বুর্জোয়াদের যেকোন চিহ্ন নির্মূল করা চেষ্টা করেছিলেন। অনেক সময় তা ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ধনী ভূস্বামীদের নির্মূল করার মাধ্যমে। আবার অনেক সময় তা ছিল শিশুদের ডাকটিকিট সংগ্রহে বাঁধা দেওয়ার মাধ্যমে।

জনশ্রুতি আছে যে, মাও সেতুং ডাকটিকিট সংগ্রহ করাকে ঘৃণা করতেন। এ কাজকে তিনি বুর্জোয়াদের একটি বিনোদন হিসেবে দেখতেন। যখন সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়, তখন ডাকটিকিট সংগ্রহ হিসেবে রাখতে তার লোকজনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

এই শাসন মাও সেতুং মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত বলবৎ ছিল তবে শখের চীনা সংগ্রাহকদের উপর চড়াও হওয়ার আগেই তারা ডাকটিকিট সরিয়ে ফেলেছিল। মজার বিষয় হল, মাও এর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সাংস্কৃতিক বিপ্লবে নিষিদ্ধ হওয়া সেইসব ডাকটিকিটের চাহিদা এখন পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি এবং মূল্যবান।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাকটিকিট দেখতে কেমন জানতে পড়ুন আমি নিশ্চিত আপনি জানেন না, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাকটিকিট ঠিক কত বড়?

শিক্ষকদের মারধর করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়েছিল

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

গলায় বোর্ড ঝোলানো শিক্ষক। (23yy.com)

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তার জনগনকে “পুরাতন সমাজের মন্দ অভ্যাসগুলো দূর” করতে এবং তাদের পূর্বপুরুষদের পুরাতন ধ্যান ধারণার পতন ঘটাতে উৎসাহিত করেছিল। যদিও এর কোন প্রমাণ নেই যে তারা কখনো স্পষ্ট করে বলেছিল যে “তোমার শিক্ষককে পিটিয়ে মারো”, তবে লোকজন তা এভাবেই গ্রহণ করেছিল।

১৯৬৬ সালে কমপক্ষে ৯১ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষককে রাস্তায়ে টেনে নিয়ে গিয়েছিল এবং যতক্ষণ না তাদের দুর্নীতিবাজদের নথিভুক্ত করা হয়েছিল, তাদের মারধর করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে, শিক্ষকদের পোষাকে লাল রঙ ছুড়ে দিয়ে শিক্ষার্থীরা X চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছিল এবং বোর্ডে তাদের নাম লিখে লাল রঙের X চিহ্ন দিয়ে কেটে গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর পেরেক-ফুটানো লাঠি দিয়ে তাদের পিটিয়ে এবং ফুটন্ত পানিতে ঝলসে দেওয়া হয়েছিল যতক্ষণ না তারা মারা যায়।

শেষ পর্যন্ত, ১৮ জন শিক্ষাবিদ তাদের শিক্ষার্থীদের হাতে নিহত হয় এবং আরও অনেকে অপমানে আত্মহত্যা করেছিল। অন্যদিকে, মাও সেতুং নিশ্চিন্তে বসেছিলেন এবং তার নিরাপত্তা বাহিনীকে শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি পুরো দুই বছর ধরে এই অবস্থা চলতে দিয়েছিলেন।

নির্মাণ উপকরণ যোগাতে গ্রেট ওয়াল ভাঙা হয়েছিল

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

চীনের গ্রেট ওয়াল। (Wikimedia Commons)

১৯৭০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, চীনা সরকার অনুধাবন করেছিল, আবাসনের নির্মাণ উপকরণের জন্য এত অর্থ অপচয়ের দরকার নেই। তাদের সামনে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দেয়াল রয়েছে যা অযথাই জায়গা দখল করে আছে। তারা জনগণকে ঘর নির্মাণে গ্রেট ওয়ালের ইট খুলে ব্যবহারে উৎসাহিত করেছিল, এই সুযোগে যদি এই পুরনো জঞ্জালও পরিষ্কার হয়ে যায়।

গ্রেট ওয়ালের কাছাকাছি গ্রামবাসীরা সেখান থেকে ইট খুলে তাদের বাড়ী নির্মাণে ব্যবহার করেছিল। এমন কি সরকার একটি বাঁধ নির্মাণের উপকরণের জন্য গ্রেট ওয়ালের একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছিল।

গ্রেট ওয়াল অবশেষে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে মর্যাদা পেয়েছিল, এবং এলাকাটি  সুরক্ষিত করা হয়েছিল। আজকের দিনে, এখনও অনেক ঘর রয়েছে যা ধারণ করছে ইতিহাসের সেইসব বিশাল বিশাল খণ্ডগুলো।

বাঘ হল জনগণের শত্রু এমনটা ঘোষণা করে বাঘ প্রায় নির্মূল করা হয়েছিল

চীনের কিছু অদ্ভুত ঘটনা

ইন্দো-চায়না বাঘ। (Wikimedia Commons)

১৯৫৯ সালে, চীনে কৃষকরা বাঘের আক্রমণে পরলে, মাও বাঘের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। মাও বাঘকে নেকড়ে এবং চিতাবাঘের সাথে “জনগণের শত্রু”  এবং এদের নির্মূল করা উচিত বলে ঘোষণা করেছিলেন।

কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকটি ‘বালাই-নাশক’ প্রচারাভিযানে, জনগণকে শিকারী প্রাণীদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করতে উৎসাহিত করেছিল। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে, চীনারা বিশ্বের ৭৫ শতাংশ দক্ষিণ এশীয় বাঘ হত্যা করেছিল এবং এইসব প্রাণীদের বিলুপ্তির পথে নিয়ে এসেছিল।

লাল গার্ড চেয়েছিল লোকজন লাল ট্রাফিক বাতি দেখে চলবে, সবুজ বাতিতে থামবে

চীনের অদ্ভুদ কিছু ঘটনা

লাল ট্রাফিক বাতি।

রেড গার্ড যেকোন রকমের বিপ্লববিরোধী যেকোন কর্মকাণ্ডের প্রতি সর্বদা লক্ষ্য রাখত। ১৯৬৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের নজরে পরলো এমন একটি বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ কাজের – লোকজনেরা লাল ট্রাফিক বাতি দেখলে, তাদের গাড়ি থামিয়ে দিত।

যেহেতু পার্টির রঙ লাল ছিল, লাল বাতিতে থামা এবং সবুজ বাতিতে চালনা করা “বিপ্লবের অগ্রগতিতে বাঁধা“, এমনটা মনে করা শুরু করলো পার্টির একদল সদস্য। তারা এর বন্ধের দাবিতে মিছিল শুরু করেছিল। তখন থেকে তারা ঘোষণা করেছিল যে, লাল বাতিতে চলতে তারা লোকজনকে বাধ্য করবে।

সৌভাগ্যক্রমে, চীনের প্রিমিয়ার বা প্রধানমন্ত্রী চু এন-লাই রেড গার্ডদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই থামিয়ে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী চু এন-লাই তার লোকদের সাথে বৈঠকে বসেন এবং আশ্বস্ত করেন যে লাল বাতিতে থামা প্রতীকরূপে কিভাবে “সকল বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়।” এর মাধ্যমে কোন দাঙ্গার আক্রমণ বা ট্রাফিক দুর্ঘটনা এতে সহজে এড়ানো সম্ভব।

টাই রাখার দায়ে লোকজন গ্রেফতার হয়েছিল

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

টাইকে মনে করা হত পুঁজিবাদী চিহ্ন।

লেখক লিয়াং হেং এর মতে, মাও সেতুং এর শাসনামলে লোকজনকে ভাল পোষাক পরিধানের জন্য শাস্তি পেতে হত। লিয়াং এক গল্পে লিখেছিলেন, তার বাবার কাছে একটি গলায় পরার টাই পাওয়া যাওয়ার কারণে তার বাবাকে প্রায় কারাগারে পাঠানোর মত অবস্থা তৈরী হয়েছিল।

রেড গার্ডের সদস্যরা লিয়াংয়ের বাবার জিনিসপত্রে একটি টাই খুঁজে পেলে তারা লিয়াংয়ের বাড়িতে হামলা করেছিল। রেড গার্ডের এক সদস্য টাইটি তুলে ধরে ঘোষণা করেছিল এটা “পুঁজিবাদী”। যখন তারা লিয়াংয়ের বাবার ঘরে তার একটি স্যুট ও কাফলিংক পেল, তখন লিয়াংয়ের বাবাকে তারা “দুর্গন্ধযুক্ত বুদ্ধিজীবী” বলে তিরস্কার করা শুরু করেছিল, তারপর সে তার সব কাপড় ও বই একসাথে করে পুড়িয়ে দিয়েছিল।

লিয়াংয়ের বাবা কারাবরণ থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল এই মর্মে যে তার জিনিসগুলো পুড়িয়ে দেওয়া “একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ” এবং এটা একটি ভাল ব্যাপার। তারপরেও তার রক্ষা হয়নি। রেড গার্ডের সদস্যতা যাওয়ার আগে তার রেডিও এবং মাসের বেতন নিয়ে গিয়েছিল।

পার্টির প্রতি কতটা নিবেদিত তা প্রদর্শনে লোকজন নরমাংস ভক্ষণ করেছিল

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

মাও সেতুং এর চীনে, নরমাংস ভক্ষণ প্রথা ছিল একটি বড় সমস্যা। কয়েকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু শিক্ষার্থী যারা তাদের প্রিন্সিপালদের হত্যা করেছিল, বিপ্লব বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিজয় উদযাপনের উপায় হিসেবে তাদের লাশের মাংস খেয়েছিল। সরকার চালিত একটি ক্যাফেটেরিয়াতে প্রতিবাদস্বরূপ বিশ্বাসঘাতকদের মরদেহ মাংস হুকে ঝুলিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এদের মাংস দুপুরের খাবারে পরিবেশন করা হয়েছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল গুয়াংজি প্রদেশে। ১৯৬০ সালের শেষের দিকে, কেবল সেই প্রদেশে কমপক্ষে ১৩৭ জন লোককে হত্যা করে খাওয়া হয়েছিল। মরদেহগুলো লোকজনের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ধারণা করা হয় কয়েক হাজার লোক নরমাংস ভক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।

যারা এটা করেছিল তারা কেউই নিরুপায় ছিল না। নরমাংস ভক্ষণের এই কর্মকাণ্ড পার্টির প্রতি কোন ব্যক্তি কতটা উৎসর্গীকৃত বা নিবেদিত তা প্রদর্শনের উপায় হিসেবে করা হয়েছিল। আপনি যদি কোন কারণে স্ব-ইচ্ছায় চীনা শত্রুদের খেতে পারেন, তারা বুঝবে যে, আপনি সে কারণটা খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন।

আমেরিকাকে মাও সেতুং এক লক্ষ নারী উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছিল

চীনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা

১৯৭০ এর চীনের নারী। (nytimes.com)

১৯৭৩ সালে মাও এর শেষের দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনার আশায় তিনি হেনরি কিসিঞ্জারের সাথে বৈঠকে বসেছিলেন। প্রথম দিকে, কিসিঞ্জার খুব গুরুতর বিষয়ে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু মাও এর মনে ছিল অন্য কিছু।

মাও কিসিঞ্জারকে বলেছিলেন, চীন একটি “অতি দরিদ্র দেশ”, কোন বাণিজ্য চুক্তি করার মত খুব সামান্য কিছুই ছিল। তবে নারীদের বিষয় ব্যতীত। মাও বলেছিলেন, তার দেশে নারীদের আধিক্য বেশি এবং এরা অনেক সমস্যার কারণ। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক লক্ষ নারী পাঠাতে চেয়েছিলেন।

কিভাবে নারীরা তার দেশের ক্ষতি করছে তা যখন মাও বার বার বলতেন, তখন তার দলের এক সদস্য তাকে সাবধান করেছিলেন, যদি তার কথা বাইরে প্রকাশ হয়, “এটি জনগণের মধ্যে ক্রোধ সৃষ্টি করবে।” মাও বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত, মৃত্যু পথযাত্রী ও ক্লান্ত হলেও, তাকে খুব চিন্তিত মনে হয় নি।

“আমি কিছুতেই ভয় পাই না”, চীনের অধিপতি কাশতে কাশতে বলে উঠেছিলেন, “ঈশ্বর আমাকে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন।”

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top