প্রযুক্তি

রোবট সোফিয়া ‘র ৭ ভাইবোন, কেমন দেখতে ওরা!

রোবট সোফিয়া

সৌদি আরবের নাগরিক রোবট সোফিয়া’র ৭ ভাইবোন দেখতে কেমন। রোবট সোফিয়া বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। আমাদের দেশে সর্বমহলে সোফিয়া আলোচনার শীর্ষে। সে এখন আমাদের মিডিয়ার ডার্লিং বেবিতে পরিণত হয়েছে। রোবট সোফিয়া কনসার্টে গান করেছে এমনকি জনপ্রিয় ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কভার মডেলও হয়েছেন। তার একটি সাক্ষাৎকার প্রায় বিলিয়ন সংখ্যায় দেখা হয়েছে। সে বড় বড় ব্যবসায়ীদের ও ডিসিশন মেকারদের সাথে সামনা-সামনি দেখা করে, বিজনেসে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উচ্চ-পর্যায়ের কনফারেন্সে সোফিয়া প্যানেল মেম্বার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়ও অংশগ্রহণ করে, রোবোটিক্স আর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছে।

সোফিয়ার প্রস্তুতকারক হ্যানশন রোবটিক্স বুদ্ধিমান এই রোবট সোফিয়ার সাথে আরও ৭টি হিউম্যানয়েড বা মানুষের মত দেখতে রোবট তৈরী করেছে, আসুন দেখি সোফিয়ার রোবট ভাই বোন দেখতে কেমন।

২০০৫ সালে হ্যানশন রোবটিক্স প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং এর প্রথম রোবটটি ছিল অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হুবো। রোবট সোফিয়া’র বড় ভাই ছিল সম্পূর্ণ দাঁড়ানো একটি রোবট। যার শরীরের উপর ছিল বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মাথা সদৃশ একটি মাথা।

আলবার্ট হুবো

আলবার্ট হুবো (Creative Commons)

২০০৫ সালের নভেম্বরে, হ্যানশন রোবটক্সের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড হ্যানশন দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে APEC সামিটে প্রথম এই রোবট উন্মোচন করেন। এইটি ছিল হ্যানশন রোবটিক্স এবং কোরিয়ার অ্যাডভান্স ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির একটি যৌথ প্রকল্প।

হ্যানশন রোবটক্সের ওয়েব সাইটে এর সম্পর্কে বলা আছে, “এটি মানুষের আকারের হাটতে পারা রোবট ফ্রেমের উপর বসানো অ্যান্ড্রয়েড মাথাওয়ালা বিশ্বের প্রথম রোবট।“

২০০৬ উইয়ার্ড নেক্সটফেস্টে হ্যানশন রোবটিক্স উন্মোচন করে তাদের পরবর্তী হিউম্যানয়েড, জুলস।

জুলস

জুলস (Hanson Robotics)

কোম্পানীর ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে বলে যে “জুলস দারুন একটি জীবন্ত প্রায় রোবট, যাকে বলা যায় দারুন সব বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে তৈরী ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’।

২০০৭ এ কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড হ্যানশন, তৈরী করে ১৭ ইঞ্চি লম্বা একটি রোবট যার নাম ‘যেনো’, নামটি রাখা হয়েছে হ্যানশনের ছেলের নামে।

যেনো

যেনো (Hanson Robotics)

কোম্পানীর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সাড়ে ৪ পাউন্ড ওজনের এই রোবটটি ২০০৭ এর উইয়ার্ড নেক্সটফেস্টে উন্মোচন করা হয়। একে বুদ্ধিমান আলাপচারিতায় সক্ষম রোবট বলে অবিহিত করা হয়েছে যা হ্যানশনের ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, ইন্টারেক্টিভ বট ‘রোবোকাইন্ড’ লাইনের অংশ হবে বলে বলা হয়েছে।

এরপরের ১০ বছর, সাবেক ডিজনী কাল্পনিকার হ্যানশন, আরও বেশি মানুষের কাছাকাছি এবং আরও জটিল রোবট নিয়ে কাজ করতে থাকেন।

সোফিয়ার ৭ ভাই-বোন সম্পর্কে পড়ার পর দেখুন ৪ জন সফল অধিনায়কের নিবন্ধ।

২০০৮ সালে হ্যানশন তৈরী করেন অ্যালিস। এটি তৈরী হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভার MIRA Labs এ।

অ্যালিস

অ্যালিস (Hanson Robotics)

মানুষের মত অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে, অ্যালিসকে ঠিক এমনভাবে তৈরী করা হয়েছিল। রোবটের গাল, মুখ, চোখ এবং চোখের ভ্রু ব্যবহার করে রোবটটি মানুষের মত আশ্চর্য, আনন্দ, ক্ষোভ এবং দুঃখী ভাব প্রকাশ করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ জেনেভা, MIRA Labs এর অ্যালিসকে INDIGO কনসোর্টিয়ামে পরিচিতি দিয়েছিল, যা রোবটিক্স গবেষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দল, যাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ ভাল পরিমানে ফান্ড রয়েছে।

তৈরী হয়েছিল ২০০৫ এ, কিন্তু হ্যানশন রোবটিক্স টিম তাদের ফিলিপ কে ডিক রোবটে আরও জটিল হার্ডওয়্যার জুড়ে দিয়ে একে নতুন করে তৈরী করে।

ফিলিপ কে ডিক

ফিলিপ কে ডিক (Hanson Robotics)

একটি অ্যান্ড্রয়েড রোবটে সমবেদনা ও সৃজনশীল হওয়ার মত অসাধারণ-লেভেলের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই ফিলিপ কে ডিক রোবটে। মানুষের মত রোবট তৈরীতে এই রোবটটি অন্যতম মাইলফলক বলে মনে করা হয়।

২০১৫ সালে হ্যানশন রোবটিক্স এর নতুন আবিষ্কার ‘হ্যান’ নিয়ে আসে। কোম্পানী এই রোবটকে হংকং এর গ্লোবাল সোর্স ইলেক্ট্রনিক্স মেলায় প্রথম দেখায়।

হ্যান

হ্যান (Getty Image)

হ্যান দর্শক এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকে বৃটিশ উচ্চারণে ইংরেজিতে প্রশ্ন নিতে পারতো। একে যতটা সম্ভব অভিব্যক্তি সম্পন্ন করে তৈরী করা হয়েছিল, যার হুবহু অনেক কিছু এবং একই ধরনের ম্যাকানিক্স সোফিয়ার মাথায়ও কাজ করছে। মানুষের মত মাংসল মুখায়ব, ব্যাঙ্গাত্মক হাসি এগুলোই এই রোবটের মূল আকর্ষণ ছিল।

প্রফেসর আইনস্টাইন, প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর দ্বিতীয় অবতার, ২০১৬ সালে ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য তৈরী হয়েছিল, যা ২০০৭ এর জানুয়ারিতে উন্মোচন করা হয়।

প্রফেসর আইনস্টাইন

প্রফেসর আইনস্টাইন (spectrum.ieee.org)

দারুন এক সফল কিকস্টার্টার ক্যাম্পেইনের পরে, হ্যানশন রোবটিক্স ১৪ ইঞ্চি লম্বা ভোক্তা সহকারী এই রোবট বিক্রি করা শুরু করে।

প্রফেসর আইনস্টাইনের মোট আটটি মোটর ও সেন্সর ব্যবহৃত হয়েছে, যার মাধ্যমে এটি ৫০টিরও বেশি মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে। এটি ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে কোন কোম্পানীর ডেটাবেজে প্রবেশ করে সে তথ্য মানুষের সাথে আলাপচারিতায় ব্যবহার করতে পারে।

ফেসবুকের তৈরীকৃত মেসেঞ্জার কিডস নিয়ে আমার আরেকটি লেখা পড়তে ক্লিক করুন।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top