ভ্রমণ

বিশ্বের ১০ টি সেরা সুন্দর স্থান যা আপনি মৃত্যুর আগে দেখতে চাইবেন

সেরা সুন্দর স্থান

প্রায় সবাই নতুন নতুন জায়গা দেখতে এবং ভ্রমণ করতে চায়, কিন্তু পৃথিবীটা এতো সুন্দর যে কোথায় থেকে শুরু করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। আসুন বিশ্বের ১০ টি সেরা সুন্দর স্থান সম্পর্কে জেনে নেই যা আপনি মৃত্যু আগে একবার হলেও দেখতে চাইবেন।

হোয়াইট হ্যাভেন বিচ–অস্ট্রেলিয়া

Whitsunday Island - Whitehaven Beach 05

এই অপরূপ সৌন্দর্য প্রায় ৭ মাইল জুড়ে অবস্থান করছে। হোয়াইট হ্যাভেন বিচ মূলত খ্যাতি লাভ করেছে এখানকার সাদা বালুর জন্য। পুরো সৈকত জুড়ে যে বালু রয়েছে তার সবটাই সাদা বালু। এই বালুর ৯৮ শতাংশ খাঁটি সিলিকা দিয়ে গঠিত, আর এই সিলিকা বালুকে অনেক বেশি উজ্জ্বল করেছে। সাদা বালির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি তাপ ধরে রাখে না। সুতরাং এই বালি কখনোই উত্তপ্ত হয় না। তাই প্রচণ্ড গরমেও বালির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে কোনো অসুবিধা হয় না। গ্রীষ্মকালেও আরামের সঙ্গে বালির উপরে শুয়ে-বসে থাকা যায়। CNN.com সৈকতটিকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশ বান্ধব সৈকত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কুকুর নিয়ে এই বীচে যাওয়া যায় না এবং ধূমপান অবশ্যই নিষিদ্ধ।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত –জিম্বাবুয়ে

Victoria Falls

এই অপরূপ সুন্দর ঝরণাটি অবস্থিত জিম্বাবুয়ের বর্ডার ও জিম্বাজি নদীর কোন ঘেঁষে। এই জলপ্রপাতটি ৩৫৪ ফুট উঁচু এবং প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এটি রোমহর্ষক কুয়াশার সৃষ্টি করে; যা সেই অঞ্চলে ‘গুড়ুম ধোঁয়া’ নামে পরিচিত। একজন স্কটিশ অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি এই জনপ্রপাতটি রানী ভিক্টোরিয়ার নামে এর নামকরণ করেন।

ফেইরি পুল–স্কটল্যান্ড

Fairy Pools, Skye, Scotland 16 (highest pool)

স্কটল্যান্ডের গ্লেন ব্রিটলে অবস্থিত। ছবির মতো সুন্দর একটি জায়গা। ঠাণ্ডা জল ও পার্শ্ববর্তী কিউলিন পর্বত থেকে নেমে আসা ঝরনা বয়ে গেছে। আর যাই হোক জলপ্রপাতের কমতি এখানে। মজার বিষয় হলো বরফ শীতল পানিতে আপনি সাতারের আনন্দ নিতে পারবেন তবে এটি গ্রীষ্মকালেও বেশ ঠান্ডা থাকে। যাইহোক,এই জায়গায় পর্বতারোহী,বন্যপ্রাণি গবেষক এবং ব্যস্ত জীবন থেকে যারা দূরে থাকতে চান তাদের জন্য আনন্দদায়ক একা সময় কাটাতে বেশ উপযোগী।

লেক ক্যারেরা–চিলি

Catedral de Mármol en Lago General Carrera

চিলির পাতাগোনিয়ায় অবস্থিত লেক জেনারেল ক্যারেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অনন্য ভান্ডার। এখানে আছে আজিউর ট্যাম্পল। অবাক লাগলেও সত্যি, এই মন্দির প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি। এর দেয়াল মার্বেলের তৈরি,যা আবার পানিতে পরিপূর্ণ। এখানে না গেলে আপনি বিশ্বাস করবেন না,আমাদের পৃথিবী যে কত অদ্ভুত আর বিস্ময়কর হতে পারে!

সাহারা ব্রিজ – ইয়েমেন

Shehara 02

চমৎকার এই ব্রীজটি যুক্ত করে ইয়েমেনের দুই পর্বতচূড়াকে। সাহারা ব্রীজ নির্মিত হয় ১৭ শতকে। তুর্কিদের সাথে যুদ্ধের প্রয়োজনে এই ব্রিজ তৈরি করা হয়। ব্রীজটির অবস্থান হয়ত ভয় তৈরি করবে আপনার মনে। কিন্তু এটি একটি চমৎকার এবং জনপ্রিয় টুরিস্ট আকর্ষণ। জীবনে একবার হলেও এর উপর দাঁড়িয়ে উপভোগ করা উচিত অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো।

হাভাসু ফল–গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক

Havasu Falls at Night

হাভাসু জলপ্রপাত পৃথিবীর বুকে স্বর্গ। আরিজোনার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এর অবস্থান। যত দূরেই হোক প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ছুটে যায় জল্প্রপাতটি দেখতে। এর নীলাভ সবুজ পানি চারপাশের সবুজ প্রকৃতির সাথে মিলে তৈরি করে কল্পনারও অতীত সৌন্দর্য্যের। এই সৌন্দর্য্য থেকে দূরে রাখবেন না নিজেকে।

গ্রেট ব্লু হোল –বেলিজ

Great Blue Hole Belize

গ্রেট ব্লু হোল বেলিজ উপকূলে অবস্থিত একটি বৃহৎ সমুদ্রগর্ভস্থ গর্ত। ব্লু হোলগুলো মূলত একটি বিশাল কেভ নেটওয়ার্কের প্রবেশদ্বার। বেলিজের বেরিয়ার রিফ রিজার্ভ সিস্টেম অবস্থিত, এটি বেলিজ সিটি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে। এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র গর্ত হিসাবে বিশ্বাস করা হয়। এটির আকৃতির বৃত্তাকার, ব্যাসার্ধ ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) এবং ১২৪ মিটার (৪০৭ ফুট) গভীরে। পরিষ্কার পানি এবং সুন্দর সামুদ্রিক জীবন সমৃদ্ধ। আপনি যদি পানিতে ডাইভ করতে ভালবাসেন তাহলে আপনার জন্য এটাই আসল জায়গা। ২০১২ সালে ডিসকভারি চ্যানেল এর এক রিসার্চে গ্রেট ব্লু হোল পৃথিবীর ১০ সবচেয়ে আশ্চর্যজনক স্থানের তালিকায় শীর্ষস্থানে ছিল।

রেড বিচ –চীন

盘锦红海滩

এটি একটি সমুদ্র সৈকত। চায়নার রেড বিচ যা ডোয়াতে অবস্থিত পানজিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩০ কিমি এলাকা জুড়ে। এই সৈকতটি লাল কারণ এটার মাটি লাল নয় বরং সুইডা নামক এক প্রকার শৈবাল পড়ার পর লাল রঙ ধারণ করে। লাল বিচ বৃহত্তম জলাভূমি যা সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র সঠিকরূপে কাজ করে। এখানে প্রায় ৩৯৯ টির ও বেশি বন্য পশু ও এবং ২৬০ প্রজাতির আছে প্রজাতির পাখি আছে। লাল বিচে শুধুমাত্র পতনের মৌসুমেই না বরং সারা পৃথিবী প্রতি বছর থেকে অনেক পর্যটক এসে থাকে।যে কেউ চাইলেই বাজেট ঠিক করে এখানে এসে বেড়িয়ে যেতে পারে।

পামুক্কালা –তুরস্ক

Pamukkale4

তুরস্কের পামুক্কালা দেখে অনেকের বরফের পাহাড় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটা বরফ নয়। এই পাহাড় বা ঝর্ণা সৃষ্টি হয়েছে স্ফটিকের মত ক্যালসিয়াম থেকে। ১০০০ বছর আগে তুরস্কের দিঞ্জিল অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প সংগঠিত হয়। আর ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট ফাটল থেকে বের হয়ে আসে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পানি। তারপ যুগে যুগে এই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পানির প্রবাহ রূপ নেয় এই স্বেত ঝর্ণার পাহাড়ে।

সান্তোরিনি –গ্রীস

Oia, Santorini, Greece - panoramio (34)

আগ্নেয়গিরি থেকে উৎপত্তি গ্রীসের এই দ্বীপটি। এর আনুষ্ঠানিক নাম “থেরা” বা “থিরা”, কিন্তু সাধারণত একে সান্তোরিনি বলেই ডাকা হয়। গ্রীসের মূল ভূখন্ড থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত ছোট্ট এই দ্বীপে রয়েছে নতুন-পুরনো ধাঁচের বেশ কিছু গ্রাম। এখানে গিয়ে আপনি যেমন পুরনো গ্রীসের স্বাদ অনুভব করতে পারেন, তেমনি আধুনিক সব সুযোগ সুবিধার মাঝে আপনার ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন। সাদা রঙের বাড়ীতে ভরে আছে পুরো শহর। বাড়িগুলোর ছাদ বেশির ভাগেরই নীল। এই দুই রঙের মিশেলে সাগর যেন উঠে এসেছে দ্বীপের বাড়িগুলোতে। পুরো সান্তোরিনিতে ছড়িতে ছিটিয়ে আছে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মত আরও অনেক কিছু।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top