ভ্রমণ

আকাশে উড়ন্ত বিমানে উলঙ্গ আর বিচিত্র আচরণের ফিরিস্তি

বাংলাদেশী এক যাত্রী আকাশে উড়ন্ত বিমানে উলঙ্গ হয়েছেন, অশ্লীল চলচ্চিত্র দেখে হস্ত মৈথুন করেছেন। নিন্দনীয় কাজ বটে, সামাজিক মাধ্যমে – অনেকে ছি ছি করছেন, কেউ কেউ লোকটিকে বিস্তর গালমন্দ করেছেন। তবে কয়েকজন, বিদেশ বিভুঁইয়ে – চুঙ্গিঘর থেকে শুরু করে বিদেশী নাগরিকদের সামনে দেশের ইজ্জত প্লাস্টিক হয়ে গেলো বলে মন্তব্য করেছেন, কেউ কেউ জাত গেলো জাত গেলো রব তুলে এই জাতের বাংলাদেশীদের দায়ী করছেন।

ভাই থামেন, এটা বাংলাদেশীদের সহজাত প্রবৃত্তি নয়। কিংবা শুধুমাত্র বাংলাদেশীর দ্বারা ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়। এমনকি পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া এইটি প্রথম ঘটনাও নয়। এরকম করে আর কতকাল নিজেরা ইমপোস্টার সিনড্রোমে ভুগবেন? নিজেদের কনফিডেন্স কমানোর খবর যেনো থামছেই না, আজকেই প্রথম আলো জানালো, “মূল্যায়ন সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবনমন” হয়েছে। ইন্টারনেটের এই যুগে বসে বসে খবর শুনলে, এক চোখ অন্ধ হয়ে যাবে। আপনি বসে থেকে খবর আসার অপেক্ষা না করে, খবরের নিকট পৌঁছে যান। আকাশে উড়ন্ত বিমানে কত কি হয়, জানেন? বলবেন, আমরা আকাশপথে ভ্রমন করি না, নিজ চোখে কিছু ঘটতে দেখি না, কি করে জানবো? সহজ উত্তর, বসে না থেকে খবরের নিকটে যাই চলুন।

২০১৫ সালের মার্চ মাসের ঘটনা, উড়ন্ত বিমানে হঠাৎ করে সবার নাক আঘাত করলো, মনুষ্য মলের অসহ্য দুর্গন্ধ। প্লেনে বাতাস বের হওয়ার রাস্তা নেই, ওখানে কেউ পাদ দিলে সবাইকে সেবা গ্রহন করতে হয়। তো মলের দুর্গন্ধ সইতে না পেরে ব্রিটিশ এয়ারলাইনসের ওই বিমানটির পাইলট দুবাই না গিয়ে প্লেন ঘুরিয়ে হিথরো নিয়ে যান। সকল যাত্রী দামী হোটেলে বিনামূল্যে রাত কাটানোর সুযোগ পেয়ে যায়। যা ঘটে থাকতে পারে – হয়ত, কোন যাত্রী টয়লেটের লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। একটা সময় চাপ সহ্য করতে না পেরে, প্লেনের কোন স্থানে বা নিজের জামাতেই সবার আড়ালে মলত্যাগ করে, চাপমুক্ত হয়েছিলেন। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া ওই ব্যক্তি কিন্তু বাংলাদেশী ছিলেন না।

বিমানে শিশুর হাগু

দেখুন, কোন এক বাবা-মা নিজ সন্তানের ব্যবহৃত ডায়াপার ভাঁজ করে বিমানের আসনের পকেটে রেখে দিয়েছেন। যদিও নিশ্চিতরূপেই উড্ডয়নের পূর্বেই, বিমানবালা ডায়াপার ফেলার সঠিক প্রক্রিয়া বলে দিয়েছিলেন, সাথে একটি প্যাকেটও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে, ডায়াপার চলে গেছে সিটের পকেটে! তবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ওই শিশু বা তার বাবা-মা কেউ বাংলাদেশী ছিলেন না।

সামনা সামনি না দেখলে, কেউ কি হলফ করে বলতে পারবে, যাত্রী সংবাদপত্র ছিঁড়ে ওখানে কেন জমা করেছেন? হয়ত কেউ বলবেন, আরে আমি জানি এসব, এসি ফুটো হয়ে পানি গড়িয়ে পরছিল। ভাই, এটা ঢাকা-মাইজদি এসি বাস না যে, ফুটো হবার পর, তা মেরামত না করে প্লেন আকাশে উড়বে। আর বিমানের এসির ফুটো কি ওভাবে বন্ধ হবো? কারণ যাই হোক, কাগজ ছেঁড়া যাত্রী বাংলাদেশী ছিলেন না।

ওপরের ছবি দেখুন, একজন বিমান উড়ন্ত অবস্থায় নিজের ভেজা কাপড় শুকাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি অন্য যাত্রীদের আসনে বিধিবহির্ভূতভাবে অন্তর্বাস শুকাতে দিয়েছেন। শোনেন, আমরা রেলিংয়ে কাপড় শুকোতে দেই, কিন্তু এটি আমাদের কোন বাংলাদেশীর কর্ম নয়।

ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের এক পরিচ্ছন্ন কর্মী কোকা-কোলার বোতলে প্রশ্রাব প্রদর্শন করছেন। কোন যাত্রী বোতলে প্রশ্রাব করে, ফেলে রেখে চলে গেছেন। তবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ওই ফ্লাইটের কোন বাংলাদেশী যাত্রী ছিলেন না।

আংশিকভাবে কোনকিছু দেখেই, সেটি নিয়ে চর্বিত-চর্বণ করলে হবে না। সম্পূর্ণ বিষয় দেখার সুযোগ অতিক্রান্ত হলে, কমন সেন্স ব্যবহার করে, পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ভূমি থেকে হাজার ফিট ওপরে আকাশে উড়ন্ত অবস্থা দরজা-জানালা-বন্ধ-বিমান যেকোন মানুষের জন্যে একটি মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়া-আসায় সময় দুই বা ততোধিক বার প্লেনে উঠতে হয়। বেশিরভাগ সময় ১৫-১৬ ঘন্টা একটানা আকাশে উড্ডীন অবস্থায় থাকতে হয়। এই যাত্রাপথে অনেক শান্ত-ভদ্র-মার্জিত মানুষকে পাগলপ্রায় হতে দেখা গেছে। অনেকে নিজের হাত কামড়ে রক্তাক্ত করেছেন, এমনও শোনা যায়। কেউ কেউ মাথার চুল ছিঁড়েন, বই-কাগজ পত্র ছিঁড়ে নিজেকে শান্ত রাখেন। মাঝে মাঝে অবুঝ শিশুদের যে কি অবস্থা হয়, তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। তো ওইসব ফ্লাইটে, ইকোনমি ক্লাসের একটি ছোট স্থানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার পর যদি প্রশ্রাব-পায়খানার চাপ লাগে। আর টয়লেটের সামনে থাকে অপেক্ষমাণদের দীর্ঘ সাঁরি। তার ওপর আপনি যদি হন বহুমূত্র রোগী, আপনি কি করবেন? আসলে আপনার কিছু করা লাগবে না, সব নিজে নিজে হয়ে যাবে। কিন্তু সেই আপনি যদি মনের সকল শক্তি একত্র করে, আড়ালে গোপনে কোন ব্যাগ ত্যাগ করেন, বা লুকিয়ে খালি বোতলে প্রশ্রাব করেন। তাহলে, আপনাকেই ওই সময়ের সবচে বেশি বুদ্ধিমান কাজটি করার জন্য পুরস্কৃত করা উচিত।

খবরে প্রকাশ আমাদের ওই বাংলাদেশী কি কারণে অশালীন এবং অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেছিলেন, তা ফট করে ফয়সালা করা উচিত হবে না। কোন খোঁজ পেলাম না, যাত্রার পূর্বে তিনি কি করেছিলেন? কোন মাদক গ্রহন করেছিলেন কিনা? কিংবা দেশে ফেরত আসার আগের রাতে যৌন উত্তেজক ঔষধ সেবন করে, যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছিলেন কিনা? যদি এই শেষ কারণটি ঘটে থাকে, তাহলে পরে আরেকটি যদি যোগ করলে, বলা যেতে পারে সেই যৌন উদ্দীপক বড়ির কার্যকারিতা শেষ হয়নি, আর সেটি হাজার ফুট উচ্চতায় যাত্রীর যৌন উত্তেজনামূলক হরমোনকে ট্রিগার করেছিলো। নিজের কাপড় নিজে খুলে ফেলার বিষয়ে তার হুঁশ ছিলো না।

তবে, এও সঠিক অনেক অভদ্র যাত্রী আকাশ পথে ভ্রমন করেন। সহযাত্রী এবং বিমানবালারা প্রতিনিয়ত এমন অসভ্য যাত্রীদের, আজব সব কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে থাকেন। যাত্রি অনেক টাকা দিয়ে টিকেট কেটেছে, অথবা শুরুর এবং বা শেষের এয়ারপোর্টের দেশের আইন জানা নেই বা কার্যকর কোন আইন নেই; এইসব কারণে এয়ারলাইন্স গুলো অনেক সময় কিছু বলে না। কিন্তু অনেকেই স্বউদ্যোগে, ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ওইসব যাত্রীদের জনসম্মুখে অপমানের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার প্রচেষ্টা করেন। একে বলা হয় পাবলিক শেমিং, ওইরকম হাজার হাজার ছবি দেখতে চাইলে passengershaming লিখে গুগলে ইমেজ সার্চ করে দেখুন, কত উলঙ্গ খুঁজে পাবেন মাঝ আকাশে।

নাক উঁচু জাতের পতাকাবাহী বিমানের পাইলট ককপিটে বসে হস্ত মৈথুন করেন। ওই পাইলট বাংলাদেশী ছিলেন না। নিচে লিংকে ক্লিক করে, পড়ে আসুন। এখানে লিখে কলেবর বাড়াতে চাইনা।

মাঝ আকাশে বিমানের ককপিটে হস্তমৈথুন পাইলটের

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top